সংবিধানে ‘জাতির পিতা’ বিধান ও শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বাধ্যতামূলক করার বিধান বাতিলের সুপারিশ করে কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের বিধান ব্যক্তি বন্দনাকে উৎসাহিত করে, স্বৈরতন্ত্রের পথ সুগম করে। ‘বাংলাদেশ’ অগণিত বরেণ্য মানুষের নেতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও অবদানের সামষ্টিক ফসল। এ রক্তস্নাত মাতৃভূমিতে একক ব্যক্তিকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে অভিহিত করার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি বা বাস্তবতা নেই।
বিদ্যমান সংবিধানের ‘জাতির পিতা’ বিধান বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। একই সঙ্গে বাহাত্তরের সংবিধানে ফ্যাসিবাদের বীজ নিহিত থাকা এবং সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ রাষ্ট্রে বিভক্তি ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করেছে কমিশন।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রকাশিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়। সংবিধান সংস্কার কমিশনের পাঁচ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে ফ্যাসিবাদের বীজ রয়েছে জানিয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। এ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রসঙ্গ টেনে সংস্কার কমিশন প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পরবর্তীকালের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা ও শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের বীজ ১৯৭২ সালের সংবিধানের মধ্যেই নিহিত ছিল।
১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে যে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সে ধারণা সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বলে দাবি করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে রাখার বিধান বহাল রাখার পক্ষে অভিমত দিয়ে সুপারিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে অংশীজন ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। তাই কমিশন বিধানটি রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে বিষয়টিতে কমিশনের সব সদস্যরা একমত হননি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ (আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু) অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মত দিয়েছে কমিশন।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি সংবিধানে বাংলাদেশে নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত সব ভাষা এ দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন।
১৪৪ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ দুইবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যার মেয়াদ হবে চার বছর করে। এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলের প্রধান বা সংসদ নেতা হতে পারবেন না বলেও সুপারিশে বলা হয়।











