বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

এরদোগান আবার নির্বাচিত হলে খোদাভীতিকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষানীতি করা হবে : ফাতিহ এরবাকান

আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান আবারো ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন জোটসঙ্গী নিউ ওয়ালফেয়ার পার্টির প্রধান ফাতিহ এরবাকান।

তুরস্কের ইসলামী জাগরণের অন্যতম প্রাণপুরুষ ড. নাজমুদ্দীন এরবাকানের পুত্র বলেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে আমরা জাতীয় শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনবো। আমরা আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতিকে এমনভাবে সাজাবো যেখানে আখেরাত ও খোদা ভীরুতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এমন পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করবো যাতে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম আল্লাহকে ভয় করে।

মঙ্গলবার (৯ মে) নির্বাচনে জয়ী হলে তুরস্কের শিক্ষানীতি কেমন হবে তা নিয়ে এক জনসভায় কথা বলেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে এরদোগানের জোটসঙ্গী হয়েছেন এরবাকান পুত্র ফাতিহ এরবাকান। যাকে বিশ্লেষকদের অনেকেই ঐতিহাসিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি এরদোগানকে সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্যে তুরস্কের আসন্ন নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীতা থেকে তিনি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।

বিশ্লেষকগণ বলছেন, আসন্ন নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি নির্বাচন। এমন স্পর্শকাতর নির্বাচনে এরবাকান পুত্রের সমর্থন হয়ে উঠতে পারে এরদোগানের জন্য টার্নিং পয়েন্ট।

কেননা নাজমুদ্দীন এরবাকানের পুত্র হওয়ায় তুরস্কের রাজনীতিতে ফাতিহ এরবাকান ও তার সমর্থনের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এরবাকান পুত্রের সমর্থন পাওয়ার অর্থ হলো, অনায়াসে তুরস্কের রক্ষণশীল মুসলিম সমাজের সমর্থন পাওয়া। দেশটির সাধারণ ও রক্ষণশীল মুসলিম সমাজের কাছে এরবাকান কতটা জনপ্রিয়, ১৯৯৯৬ সনের নির্বাচনই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

খেলাফত পরবর্তী উগ্র সেক্যুলার আতাতুর্কের তুরস্কে ইসলাম ধর্মের উপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলো দেশটিতে ইসলাম ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গঠিত এরবাকানের রাজনৈতিক দল ওয়ালফেয়ার পার্টি বা রেফাহ পার্টিসি (আরপি)।

বিশ্লেষকগণ ধারণা করছেন, আসন্ন নির্বাচনে কমপক্ষে ২ শতাংশ ভোট পেতে পারে এরবাকান পুত্রের দল নিউ ওয়ালফেয়ার পার্টি বা ইয়েনিদান রেফাহ পার্টিসি (ওয়াইআরপি)।

সংখ্যায় কম হলেও সম্ভাব্য এই ২ শতাংশ ভোটই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে দেশটির রাজনীতিতে। কেননা ফাতিহ এরবাকান ও তার দল আসন্ন নির্বাচনে এরদোগান ও তার নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস এলায়েন্সকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাছাড়া এরদোগানের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানোকে এরবাকান পুত্রের দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলেও গণ্য করছেন বিশ্লেষকগণ। কেননা এরদোগানের ভাষ্য অনুযায়ী এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

তাই এরবাকান পুত্রের ২ শতাংশ ভোট ও এরদোগানকে তার সমর্থনের সিদ্ধান্তকে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারক বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দূরদর্শী নীতি ও সফলতা ধরে রাখা সাপেক্ষে মনে করছেন ফাতিহ এরবাকানই হতে পারেন এরদোগান পরবর্তী তুরস্কের নতুন প্রেসিডেন্ট, রাজনৈতিক দৃশ্যপটে যার আগমন ঘটেছিলো ২০১১ সনে প্রভাবশালী ইসলামিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. নাজমুদ্দীন এরবাকানের ইন্তেকালের মধ্যদিয়ে।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ