spot_img
spot_img

ফররুখ আহমদের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান কবি ফররুখ আহমদের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলা কাব্যে ইসলামী আদর্শ, মুসলিম ঐতিহ্য, মানবতাবোধ ও জাগরণের চেতনা শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার কারণে তিনি ইসলামী রেনেসাঁর কবি হিসেবে পরিচিত।

ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। মাতা রওশন আখতার। পরিবারে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় পুত্র।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ফররুখ আহমদ ছিলেন মেধাবী ও সাহিত্যপ্রবণ। ১৯৩৭ সালে তিনি খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯৩৯ সালে আইএ পাস করেন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন। তবে পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে ফররুখ আহমদ কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস ও সিভিল সাপ্লাই অফিসে চাকরি করেন। ১৯৪৫ সাল থেকে তিনি মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত হন। ভারত বিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এরপর রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘খেলাঘর’ পরিচালনা করতেন।

ফররুখ আহমদের চিন্তাজীবনও ছিল বৈচিত্র্যময়। ছাত্রাবস্থায় তিনি এম.এন. রায়ের র‌্যাডিক্যাল মানবতাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর চিন্তায় বড় পরিবর্তন আসে। তিনি মুসলিম পুনর্জাগরণ, ইসলামী আদর্শ ও মুসলিম জাতিসত্তার আত্মমর্যাদার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। এই পরিবর্তনের ছাপ তাঁর কবিতা ও সাহিত্যজীবনে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী হলেও ফররুখ আহমদ ছিলেন না অন্ধ আনুগত্যের মানুষ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি পূর্ব বাংলার মানুষের ভাষিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়ান। একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ঘটনার পর তিনি রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রের শিল্পীদের প্রতিবাদী অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত হন। শিল্পীদের ধর্মঘটে যোগ দিতে তিনি তাঁদের সংগঠিত ও উৎসাহিত করেন।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর রেডিওতে কর্মরত আলতাফ মাহমুদ, আব্দুল আহাদ, আব্দুল হালিম চৌধুরীসহ অনেক শিল্পীর সঙ্গে ফররুখ আহমদও প্রতিবাদী অবস্থান নেন। সে সময় পাকিস্তানি শাসকদের ব্যঙ্গ করে তিনি ‘রাজ-রাজরা’ নামে একটি নাটক লেখেন। নাটকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হয়। প্রখ্যাত নাট্যকার মুনীর চৌধুরী এতে অভিনয় করেন। পরে বেনজীর আহমদ ও আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত ‘নয়াসড়ক’ সংকলনে নাটকটি প্রকাশিত হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও ফররুখ আহমদের সমর্থন ছিল। তিনি মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে ছিলেন। তাঁর লেখায় ধর্মীয় চেতনা ছিল, কিন্তু তা ছিল নৈতিক শক্তি, মানবমুক্তি ও আত্মমর্যাদার আহ্বান হিসেবে। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের পক্ষপাতী তিনি ছিলেন না।

কিশোর বয়স থেকেই ফররুখ আহমদ সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর লেখা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই একজন নবীন কবি হিসেবে তিনি পাঠক ও সাহিত্যসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর কবিতা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় আলোচনা শুরু হয়। কলকাতা রেডিওতেও তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা প্রচারিত হয়। এতে বোঝা যায়, শুরু থেকেই তিনি বাংলা কাব্যক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সম্ভাবনা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে কবি হিসেবে ফররুখ আহমদের উত্থান ঘটে। ১৯৪৪ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’। এই গ্রন্থই তাঁকে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে। ‘সাত সাগরের মাঝি’ শুধু একটি কাব্যগ্রন্থ নয়; এটি ছিল স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, মানবতাবোধ, মুসলিম জাগরণ ও আত্মমর্যাদার এক শক্তিশালী কাব্যঘোষণা।

চল্লিশের দশকে ইংরেজবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন ও পাকিস্তান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ফররুখ আহমদ গণজাগরণমূলক কবিতা লিখে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি মুসলিম পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী ছিলেন। ইসলামী আদর্শ, আরব-ইরানের ঐতিহ্য, ইতিহাসচেতনা ও আত্মপরিচয়ের গৌরব তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে। কাজী নজরুল ইসলাম যেমন মুসলিম জাগরণের কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অসামান্য মর্যাদা পেয়েছেন, তেমনি ফররুখ আহমদও মুসলিম রেনেসাঁর কবি হিসেবে স্বতন্ত্র স্থান অর্জন করেন।

১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ফররুখ আহমদের কবিতায় গভীরভাবে ধরা পড়ে। দুর্ভিক্ষের ক্ষুধা, মৃত্যু, অসহায়ত্ব ও সামাজিক বিপর্যয় নিয়ে তিনি একাধিক কবিতা রচনা করেন। ওই সময়ের প্রায় ১৯টি কবিতায় দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁর ‘লাশ’ কবিতাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। ১৯৪৪ সালে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত ‘আকাল’ সংকলনে কবিতাটি স্থান পায়। দুর্ভিক্ষ নিয়ে সে সময় অনেক কবি লিখলেও ফররুখ আহমদের কবিতার স্বর ছিল আলাদা। সেখানে ছিল তীব্র মানবিকতা, গভীর বেদনা ও স্বতন্ত্র কাব্যশক্তি।

ফররুখ আহমদের কাব্যভাষা ছিল বলিষ্ঠ ও নিজস্ব। আরবি-ফারসি শব্দের শিল্পিত ব্যবহার তাঁর কবিতাকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। তাঁর ছন্দে ছিল দৃঢ়তা, কল্পনায় ছিল বিস্তার, আর ভাবনায় ছিল ইতিহাস, আদর্শ ও মানবতার সমন্বয়। তিনি শুধু আবেগের কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন চিন্তার কবি, জাগরণের কবি এবং নৈতিক শক্তির কবি।

গীতি কবিতা, মহাকাব্য, সনেট, গল্প, উপন্যাস, নাটক, সংগীত, প্রবন্ধ, বেতার কথিকা ও গীতি-নকশাসহ সাহিত্যের নানা শাখায় ফররুখ আহমদ কাজ করেছেন। তবে কবিতা রচনাতেই তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিজীবনের বেদনা যেমন আছে, তেমনি আছে জাতির ভাগ্য, সমাজের সংকট এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।

ফররুখ আহমদের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘আজাদ করো পাকিস্তান’, ‘সিরাজাম মুনীরা’, ‘নৌফেল ও হাতেম’, ‘মুহূর্তের কবিতা’, ‘হাতেম তা’য়ী’, ‘হে বন্য স্বপ্নেরা’, ‘ইকবালের নির্বাচিত কবিতা’, ‘কাফেলা’, ‘হাবেদা মরুর কাহিনী’, ‘তসবিরনামা’, ‘দিলরুবা’, ‘ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য’, ‘অনুস্বার’ ও ‘ধোলাই কাব্য’। এসব গ্রন্থে তাঁর কাব্যপ্রতিভার ভিন্ন ভিন্ন দিক প্রকাশ পেয়েছে।

‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদের প্রথম এবং সবচেয়ে আলোচিত কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থে তাঁর স্বাধীনতাপ্রীতি, মানবতাবোধ ও মুসলিম জাগরণের চেতনা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আর ‘হাতেম তা’য়ী’ তাঁর মহাকাব্যিক ক্ষমতার পরিচয় বহন করে। বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর পর সফল মহাকাব্যিক নির্মাণের আলোচনায় ফররুখ আহমদের ‘হাতেম তা’য়ী’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

কাব্যনাটক রচনার ক্ষেত্রেও ফররুখ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মুসলিম কবিদের মধ্যে তাঁকে এ ধারার পথিকৃৎদের একজন বলা হয়। তাঁর ‘নৌফেল ও হাতেম’ একটি সফল কাব্যনাটক হিসেবে পরিচিত। কাব্যনাটকের ভাষা, ছন্দ ও নাটকীয়তা নির্মাণে তাঁর স্বাতন্ত্র্য এ রচনায় স্পষ্ট।

সনেট রচনায় ফররুখ আহমদ বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের পর এত বিপুল সংখ্যক সনেট রচনার ক্ষেত্রে তাঁর নাম গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তাঁর পূর্ণাঙ্গ সনেটধর্মী গ্রন্থের মধ্যে ‘মুহূর্তের কবিতা’, ‘দিলরুবা’ ও ‘অনুস্বার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘মুহূর্তের কবিতা’য় ৯৪টি, ‘দিলরুবা’য় ৪৯টি এবং ‘অনুস্বার’-এ ৮৫টি সনেট রয়েছে। এ ছাড়া ‘সিরাজাম মুনীরা’, ‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘আজাদ করো পাকিস্তান’ ও ‘হাতেম তা’য়ী’ গ্রন্থেও সনেটধর্মী রচনা আছে। ‘রাত্রি’ নামে একটি সনেট দিয়ে তাঁর কাব্যজীবনের সূচনা হয়েছিল বলে জানা যায়। জীবনের শেষ পর্যায়েও তিনি সনেট রচনায় নিবিষ্ট ছিলেন।

ব্যঙ্গ কবিতার ক্ষেত্রেও ফররুখ আহমদ আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সমাজের অসংগতি, রাজনৈতিক ভণ্ডামি, নৈতিক অবক্ষয় ও ক্ষমতাবানদের অন্যায়কে তিনি ব্যঙ্গের তীক্ষ্ণ ভাষায় তুলে ধরেন। স্বনামে যেমন লিখেছেন, তেমনি বিভিন্ন ছদ্মনামেও ব্যঙ্গ কবিতা রচনা করেছেন। তাঁর ব্যঙ্গ কবিতার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অনুস্বার’, ‘ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য’, ‘তসবিরনামা’ ও ‘ধোলাই কাব্য’।

‘হাবেদা মরুর কাহিনী’ ফররুখ আহমদের গদ্য কবিতা গ্রন্থ। এ গ্রন্থে তাঁর ভাষার আরেক রূপ দেখা যায়। গদ্য কবিতায়ও তিনি যে দক্ষ ও স্বতন্ত্র ছিলেন, এ গ্রন্থ তার প্রমাণ বহন করে।

শিশু-কিশোর সাহিত্যেও ফররুখ আহমদের অবদান বড়। শিশুদের জন্য তিনি বহু ছড়া ও কবিতা লিখেছেন। তাঁর শিশুসাহিত্যে কল্পনা, ছন্দ, সরলতা ও শিক্ষণীয় ভাব একসঙ্গে মিলেছে। শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পাখির বাসা’, ‘হরফের ছড়া’, ‘নতুন লেখা’, ‘ছড়ার আসর’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘কিসসা কাহিনী’, ‘মাহফিল’ প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড এবং ‘ফুলের জলসা’। তাঁর অনেক ছড়া একসময় শিশুদের মুখে মুখে ফিরত।

এ ছাড়া ফররুখ আহমদ ‘নয়া জামাত’ নামে চার ভাগে পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন। এগুলো ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। তিনি মূলত কবি হলেও বেশ কিছু সার্থক গল্প লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পের মধ্যে রয়েছে ‘প্রচ্ছন্ন নায়িকা’, ‘মৃত বসুধা’ ও ‘বিবর্ণ’। তাঁর গল্পসমূহ পরবর্তীতে ‘ফররুখ আহমদের গল্প’ নামে আব্দুল মান্নান সৈয়দের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ‘সিকান্দার শাহর ঘোড়া’ নামে একটি উপন্যাসও তিনি শুরু করেছিলেন, তবে শেষ করে যেতে পারেননি।

ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে ফররুখ আহমদ বেশ কিছু প্রবন্ধও লিখেছেন। ভাষা বিষয়ে তাঁর কিছু কবিতা রেডিওতে নিয়মিত প্রচারিত হতো। কবিতার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য হামদ, নাত, দেশাত্মবোধক গান, প্রেমের গান, ভক্তিমূলক গান ও আধুনিক বাংলা গান রচনা করেন। তাঁর গান একসময় বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত প্রচারিত হতো। খ্যাতনামা শিল্পীরা তাঁর গান পরিবেশন করেছেন। সাহিত্য ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ভাষা ছিল সহজ, হৃদয়গ্রাহী ও অর্থবহ।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ফররুখ আহমদ ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ পান। ১৯৬৬ সালে তিনি আদমজী পুরস্কার এবং একই বছরে ইউনেস্কো পুরস্কারে ভূষিত হন। এসব পুরস্কার তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেও জীবদ্দশায় তিনি প্রাপ্য মর্যাদা পুরোপুরি পাননি।

ভাষা আন্দোলনে ফররুখ আহমদের অবদানও দীর্ঘদিন যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। স্বাধীনতার পর জীবনের শেষ দিকে তিনি নানা অবহেলা, আর্থিক কষ্ট ও অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটান। ঢাকা বেতারের চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাসা ছাড়তে হয়নি।

ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনের সেই সরকারি বাসাতেই নানা দুঃখ-কষ্ট, অনাহার-অর্ধাহার ও বিনা চিকিৎসায় ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর কবি ফররুখ আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য ছিল বড় ক্ষতি। তবে মৃত্যুর পর তাঁর অবদানের কিছু স্বীকৃতি আসে। ১৯৭৭ সালে ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়। ১৯৮০ সালে তিনি মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

ফররুখ আহমদ আজও বাংলা সাহিত্যে এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর কবিতা মুসলিম আত্মমর্যাদা, ইসলামী চেতনা, মানবতা, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও শোষণবিরোধী মননের শক্তিশালী দলিল। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে; কিন্তু তাঁর কবিতার জাগরণী আহ্বান এখনো প্রাসঙ্গিক। বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, ফররুখ আহমদের নাম ততদিন ইসলামী রেনেসাঁর কবি হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ