spot_img
spot_img

বোমা ফেলে আফগান জাতিকে দমানো যাবে না: হুরিয়াত রেডিও এর প্রতিবেদন

আবারও সংলাপের বদলে বোমার ভাষা বেছে নিয়েছে পাকিস্তান। এতে নিরপরাধ আফগানরা এমন সংঘাতের মূল্য দিচ্ছেন, যার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

আফগানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হুরিয়াত রেডিও এক প্রতিবেদনে বলেছে, আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় কয়েকজন শিশু, নারী ও বেসামরিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনা অঞ্চলটির ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। অতীতেও স্বল্পদৃষ্টির রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাব-নিকাশের কারণে সাধারণ মানুষকে বারবার মূল্য দিতে হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করাকে কোনোভাবেই নিরাপত্তা সাফল্য বা সামরিক অর্জন হিসেবে দেখানো যায় না। বোমাবর্ষণে নিহত শিশুরা যোদ্ধা ছিল না। আহত নারীরা কারও জন্য কোনো হুমকি ছিল না। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়িও কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না। এগুলো ছিল সাধারণ আফগান পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়। অথচ সেগুলো এমন ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা নিরপরাধ ও অপরাধীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।

হুরিয়াত রেডিও বলছে, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণের নীতি কোনো শক্তির জন্যই সফল হয়নি। অতীতে বড় বড় শক্তি সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই ভূমিতে প্রবেশ করেছিল। তারা ভেবেছিল, সামরিক শক্তি দিয়ে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া যাবে এবং আফগান জনগণের মনোবল ভেঙে ফেলা যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ক্ষতি ও ব্যর্থতার ভার নিয়েই ফিরে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে শুরু করে আমেরিকা ও তার মিত্ররা, সবাই একই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে। আফগানিস্তানকে বোমা দিয়ে বশ করা যায় না। সামরিক চাপ দিয়েও আফগান জাতির ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়া যায় না।

এতে আরও বলা হয়, পাকিস্তান বর্তমানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কিছু মহল নিজেদের সংকট বাইরে রপ্তানির ওপর ভরসা করছে। দেশের ভেতরে চাপ বাড়লেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর ভাষা সামনে আনা হয়। যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করলেই অভ্যন্তরীণ সংকটের সমাধান হবে, অথবা সেসব সংকটের দায় কিছুদিনের জন্য চাপা দেওয়া যাবে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। এই নীতি পাকিস্তানের জন্য নিরাপত্তা বা স্থিতিশীলতা কোনোটাই বয়ে আনেনি। বরং আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে এমন একটি অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে, যেখানে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহযোগিতা ও বোঝাপড়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান জনগণ তাদের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রমাণ করেছে, চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক, তারা নিজেদের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম। সাম্প্রতিক ঘটনাবলিও দেখিয়েছে, আফগানিস্তান তার স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর হামলার জবাব দিতে অক্ষম নয়। তাই বেসামরিক মানুষের রক্ত ভুলে যাওয়া যাবে বা এর কোনো পরিণতি হবে না, এমন ধারণা ভুল।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের জনগণ যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, উন্নয়ন ও যৌথ সমৃদ্ধির ভবিষ্যৎ চায়। কিন্তু কিছু পক্ষ যত দিন সংকটকে টিকে থাকার উপায় এবং উত্তেজনা বাড়ানোকে রাজনৈতিক লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, ততদিন সেই ভবিষ্যৎ বাস্তবায়িত হবে না।

হুরিয়াত রেডিও বলছে, পাকিস্তানের সরকারকে বুঝতে হবে, বোমাবর্ষণ দিয়ে নিরাপত্তা গড়া যায় না। প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে স্থিতিশীলতা আনা যায় না। শিশুদের রক্ত কোনো বৈধ লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হতে পারে না।

ইতিহাস সবাইকে শিখিয়েছে, শক্তি দিয়ে ভবন ধ্বংস করা যায়; কিন্তু জাতির ইচ্ছাশক্তিকে পরাজিত করা যায় না।

প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সামনে পথ স্পষ্ট। হয় সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান ও সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পথ বেছে নিতে হবে; না হয় এমন নীতি চালিয়ে যেতে হবে, যা বারবার ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে এবং যার ফল শুধু আরও সংকট, শত্রুতা ও অস্থিতিশীলতা।

আর আফগানিস্তান তার ইতিহাসজুড়ে প্রমাণ করেছে, সে কষ্ট পেতে পারে, কিন্তু ভেঙে পড়ে না। তার জনগণের ইচ্ছাশক্তি এত শক্তিশালী যে বোমা ও বিমান হামলা দিয়ে তাকে পরাজিত করা যায় না।

সূত্র: হুরিয়াত রেডিও

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ