সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১২ জন শহীদ ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। হামলায় শহীদদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং আমেরিকা, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিমানবন্দরে এ হামলা হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের সাধারণ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিহত ও আহতদের সংখ্যা এবং নিহতদের জাতীয়তা নিশ্চিত করে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করা হয়েছে। হামলাটি চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা। এর আগে বৃহস্পতিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি হামলায় তিন সৌদি নাগরিক শহীদ হন।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের তীব্রতার মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনা ঘটল। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ ৯ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে জানিয়েছিলেন, ইয়েমেনে সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ বিন সালমানের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অভিযানে আমেরিকার সরাসরি যোগ দেওয়া হবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুথিদের হামলায় একজন আমেরিকান নাগরিক শহীদ হওয়ার কথা জানিয়ে হামলার নিন্দা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং শহীদদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে সংঘাতের গুরুতর বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে। একই সঙ্গে এগুলো সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি হুথিদের এসব হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, এ হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি। কাতার সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষায় নেওয়া বৈধ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনায় বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। এ হামলাকে চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ও সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, এএফপি, জাতিসংঘ, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়











