বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

সামরিক ক্ষেত্রে বড় সাফল্য; বিশ্বের প্রথম অস্ত্র সজ্জিত ড্রোন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার তৈরি করলো তুরস্ক

পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তুরস্ক। বিশ্বের সর্বপ্রথম অস্ত্রে সজ্জিত ড্রোন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার তৈরি করে দেখিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১০ এপ্রিল) দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ড্রোন বহনে সক্ষম উন্নত প্রযুক্তির ‘টিসিজি আনাদোলু’ নামের রণতরীটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এরদোগান উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব রণতরীর ইতিহাসে টিসিজি আনাদোলুই সর্বপ্রথম রণতরী যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী হেলিকপ্টার এবং আধুনিক ইউসিএভি ফাইটার ড্রোন একই সাথে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ইউসিএভিএস বায়রাক্তার টিবি-৩, অত্যাধুনিক কিজিল এলমা ও সাধারণ আক্রমণে ব্যবহৃত হুরজেটের মতো ফাইটার ড্রোনগুলো এখন এই রণতরী থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে।

এছাড়া জাহাজের অস্ত্রশস্ত্র, কমব্যাট ও টর্পেডো ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট, ইনফ্রারেড বা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক সার্চ ও ট্র‍্যাকিং সিস্টেম সহ ইলেক্ট্রো অপটিকাল সার্চ, লেজার ওয়ার্নিং এবং ইলেকট্রনিক ওয়ার ফেয়ার সিস্টেমের সবই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

এসময় তিনি তুরস্কের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ও পৃথিবীর সর্বপ্রথম ইউসিএভি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নির্মাণে সফলতা দেখানোয় ইস্তাম্বুল ভিত্তিক জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সাদেফের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, সাদেফকে এই রণতরী নির্মাণে সফলতা দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে তারা। এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় কোনো সামরিক অভিযান ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবো।

জানা যায়, ২৩১ মিটার (প্রায় ৭৫৮ ফুট) দৈর্ঘ্য এবং ৩২ মিটার (১০৫ ফুট) প্রস্থের ‘টিসিজি আনাদোলু’ ক্যারিয়ারটি একই সাথে বিভিন্ন ধরণের বিমান, হেলিকপ্টার, ইউএভি বা মানুষ বিহীন বিভিন্ন ধরণের ফাইটার ড্রোন, ৪টি ম্যাকানাইজড ও ২টি ল্যান্ডিং ক্র‍্যাফট এয়ার ক্যুশন এলসিএসি এবং ২টি এলসিভিপি বহনে সক্ষম বিশালাকৃতির একটি যুদ্ধজাহাজ।

এলসিএসি ও এলসিভিপি হলো, সেনা ও ট্যাংকারের মতো বিভিন্ন যুদ্ধযান বাহী যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক উভচর যান।

এলসিএসি ১৫০ টনের বেশি ওজনের ৩টি ব্যাটল ট্যাংক অথবা ১০টি সশস্ত্র যুদ্ধযান, ৩টি এলসিভিপি (উপকূল পর্যন্ত সেনা বহনকারী বোট) ও ২৩০ জন সেনাকে একত্রে জাহাজ থেকে সমুদ্র উপকূলে নিয়ে যেতে সক্ষম একটি যুদ্ধযান। এটি জলপথের পাশাপাশি স্থলপথেও সমানতালে চলতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ইউসিএভি টিসিজি আনাদোলু এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নির্মাণের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলো ইসলামী খেলাফতের সর্বশেষ ধারক দেশ তুরস্ক। পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নির্মাতা দেশের কাতারেও চলে এসেছে এরদোগানের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে থাকা দেশটি।

এর আগে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এয়ারক্রাফট নির্মাণকারী দেশগুলো হলো, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। টিসিজি আনাদোলুর বদৌলতে এখন তুরস্কের নামটিও যুক্ত হলো।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ