জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমরা ভারতকে উদ্দেশ করে স্পষ্ট করে কিছু কথা বলতে চাই, শুধু ভারত নয় পুরো পৃথিবীতে আমরা কোনো রাষ্ট্রবিরোধী নই। আমরা ভারত বিদ্বেষী নই, কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে এটা বলতে চাই শুধু ভারত নয় পৃথিবীর যেকোনো দেশ আগামীতে যদি বাংলাদেশের দিকে আধিপত্যবাদের চোখ দিয়ে তাকাতে চায় শোষণের মানসিকতা দিয়ে বন্ধুত্ব করতে চায়, সেই দেশের সাথে বাংলাদেশের কোনোদিন বন্ধুত্ব সম্ভব না।
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, সীমান্তকে নিয়ে যা ইচ্ছা তা বলে বেড়ানোর পরও যখন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে যে একটা রাজ্যের প্রধান বলেছে সরকার তো বলেনি, তখন আমাদের জন্য এটা লজ্জার বিষয়। কারণ একটা রাজ্য প্রধান একটা রাজ্য সরকারের বাইরে রাষ্ট্রের বাইরে আলাদা কিছু না। আমরা দেখছি ভারত কিংবা পশ্চিমবঙ্গ সেখানে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি এই রাজনীতিতে তারা (ভারত) যে পরিমাণে মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে এসেছে, যে পরিমাণে জ্বালাও পোড়াও করছে, খুন করছে, মানুষকে নির্যাতন করাটাকে বৈধ মনে করছে, এটাকেও তারা যখন বৈধতা দিচ্ছে আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে এই ধরনের মানবধাবিরোধী যে অপরাধ সেগুলোতেও আমাদের মতামত দেয়ার মত সাহসিকতা আমার দেখাতে পারছি না। এটা তো পারছিই না কারণ সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে। কিন্তু আমাদের দেশকে নিয়ে, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বকে নিয়ে, স্বাধীনতাকে নিয়ে, সীমান্তকে নিয়ে, যা ইচ্ছা তা বলে বেড়ানোর পরও যখন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে যে একটা রাজ্যের প্রধান বলেছে সরকার তো বলেনি তখন আমাদের জন্য এটা লজ্জার বিষয় কারণ।
এনসিপি নেতা বলেন, তারা যদি মনে করে যে বন্ধুত্ব করবে সরকারের সাথে, ক্ষমতার সাথে, আমরা স্পষ্ট করে একটা কথা বলতে চাই বন্ধুত্ব করলে জনগণের সাথে করতে হবে, রাষ্ট্রের সাথে করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশে পৃথিবীর যে কোনো দেশ যদি চিন্তা করে কোনো সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখে জনগণকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশকে তাঁবেদারি রাষ্ট্র বানাবে তাহলে ওই সরকার আগামীর বাংলাদেশে কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না, টিকতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, যেই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করবে এবং আমরা আমাদের জায়গা থেকে বাংলাদেশের প্রশাসনকে সিভিল সার্ভিসে যারা আছেন, পুলিশে যারা আছেন, আর্মিতে যারা আছেন, আপনাদেরকে একটা আহ্বান জানাতে চাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা যখন নিজেকে একজন দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী দেখে মেরুদণ্ডটা এতটা বাঁকা করে নিজেকে সঁপে দেয়, তখন এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।











