spot_img
spot_img

তালেবান ও আফগান সরকারের মাঝে পুনরায় শান্তি আলোচনা আয়োজনে সফলতা দেখিয়েছে ইরান

তালেবান ও আফগান সরকারের মাঝে উচ্চ পর্যায়ের শান্তি আলোচনা আয়োজনে সফলতা দেখিয়েছে ইরান।

বুধবার (৭ জুলাই) রাজধানী তেহরানে উভয় দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজ করে তারা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবিষয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সেনাদের পরিপূর্ণ প্রস্থান না হওয়ার আগেই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করতে থাকা তালেবান প্রতিনিধিদের সাথে তেহরানে সাক্ষাৎ করেছে আফগান সরকারের একটি প্রতিনিধি দল।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে কাতারে বন্ধ হয়ে যাওয়া তাদের মধ্যকার মাসব্যাপী উচ্চ পর্যায়ের শান্তি আলোচনা আবার শুরু করতে সফল হয়েছে তেহরান।

তাছাড়া আলোচনা পরবর্তী যৌথ বিবৃতিতে তালেবান ও আফগান সরকারের প্রতিনিধি দল উভয়ে এবিষয়ে একমত পোষণ করে যে, যুদ্ধ আফগান সমস্যার সমাধান নয় এবং সব ধরণের প্রচেষ্টা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানমুখী হতে হবে।

দু’পক্ষই পরবর্তী বৈঠকে স্থায়ী শান্তি অর্জনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়। তবে পরবর্তী বৈঠকটি কত তারিখে কোথায় অনুষ্ঠিত হবে কিছুই জানায়নি তারা।

রাজনৈতিক সমাধানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তেহরানের কর্তৃক আয়োজিত শান্তি আলোচনাকে দু’পক্ষই একটি দারুণ সুযোগ হিসাবে বিবেচনা করছে বলেও জানা যায়।

তাছাড়া উভয় পক্ষই সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনগণের ঘরবাড়ি, মসজিদ, হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও ধ্বংস ডেকে আনা আক্রমণের নিন্দা জানায় এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানায়।

আরেকটি পৃথক বিবৃতিতে জানা যায়, আফগান জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে তেহরান বৈঠকে অংশগ্রহণ করায় তালেবান ও আফগান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ।

বিবৃতিতে জাভেদ জারিফ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার চেয়েও শান্তির ময়দানে সাহসিকতা প্রদর্শন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা শান্তির জন্য বেশিরভাগ চাহিদাকে একপাশে রেখে এক পক্ষকে অবশ্যই ত্যাগস্বীকার করতে হয় এবং অপরপক্ষের দাবি-দাওয়া কিংবা চাহিদার বিবেচনা করতে হয়।

উভয় পক্ষকে তিনি আলোচনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আফগান জনগণের সুবিধার্থে লড়াইয়ের অবসান ঘটানোর আহবান জানান।

পরিশেষে আরো সাবলীল আলোচনা আয়োজনে ইরান সর্বদা প্রস্তুত থাকবে বলে দৃঢ়তা জানান এই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জানা যায়, তালেবান প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে ছিলেন ডেপুটি চিফ নেগোশিয়েটর শের মোহাম্মদ আব্বাস স্টানিকজাই আর সরকার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউনুস কানুনী।

গত বুধবার (৭ জুলাই) তারা তেহরানে গিয়ে পৌঁছলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ তাদের বরণ করে নেন এবং পরবর্তীতে আলোচনা শুরুর আগ মুহুর্তে আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্ত থেকে মার্কিনীদের বিদায়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।

ইরানের বিবৃতি ও তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদের বরাতে সরকার প্রতিনিধি দলে স্টানিকজাইয়ের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের বিষয়টি জানা গেলেও বাকিদের পরিচয় প্রকাশ করেনি কেউই।

জবিহুল্লাহ মুজাহিদ শুধু এতটুকুই নিশ্চিত করেছিলেন যে, পারস্পরিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করতে তেহরান পৌঁছেছেন স্টানিকজাই। কিছু আফগান ব্যক্তিত্বদের সাথে নিয়ে তিনি আলোচনায় নেতৃত্ব দিবেন।

ইরান এমন একটি দেশ যাদের সাথে আফগান সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সাথে তাদের সীমানার পরিধি ৯৪৫ কিলোমিটার বা ৫৮৭ মাইল। নিজেদের ভূখণ্ডে কয়েক মিলিয়ন আফগানীকে শরণার্থী ও প্রবাসী কর্মী হিসেবে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছে তারা। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রতিবেশী দেশটির তীব্র বিশৃঙ্খলায় তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

সূত্র: আল জাজিরা।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ