পাকিস্তানের “ব্যর্থতার” জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে দেশটির সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাওলানা মুজাহিদ পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা, আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা এবং সমাধান খোঁজার পরিবর্তে “প্রচার-প্রচারণায়” মনোযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ “গভীর উদ্বেগের” বিষয় এবং এর প্রভাব বৃহত্তর অঞ্চলজুড়েও রয়েছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এবং দেশটির রাজনীতিবিদ ও জনগণের মতামত ও অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান আফগানিস্তানে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয় রয়েছে বলে নতুন করে অভিযোগ করার পর মুজাহিদ এসব মন্তব্য করেন।
৯ অক্টোবর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, টিটিপি, বালুচ লিবারেশন আর্মি এবং অন্যান্য গোষ্ঠী কাবুল ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে। পাকিস্তান এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান সম্পর্কে ইমারাতে ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আফগানিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।
তবে ইমারাতে ইসলামিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় বা সহযোগিতা দেওয়ার পাকিস্তানের অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ বিরোধের কারণে ইমারাতে ইসলামিয়ার ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। পাকিস্তান বারবার দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি সহিংসতার জন্য আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে ইমারাতে ইসলামিয়ার বলেছে, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
এই বিরোধ দুই দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান জানিয়েছিল, কাতার, তুরস্ক ও চীনকে সম্পৃক্ত করে পরিচালিত মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। দেশটির দাবি ছিল, ইমারাতে ইসলামিয়ার ইসলামাবাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করেনি।
তবে চলতি মাসের শুরুতে ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী বলেছেন, দুই দেশের সমস্যাগুলো সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ ক্রমেই সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানায় হামলা চালানোর দাবি করে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইমারাতে ইসলামিয়ার এসব হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু ও হতাহতের বিষয়ে পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সর্বশেষ ১ অক্টোবর কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৯ জন আহত হন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই শিশু।
সূত্র : আমো নিউজ











