বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

স্বৈরাচারী কায়দায় নয়, গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশকে শক্তিশালী করেছি : এরদোগান

গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় গিয়ে তুরস্ককে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।

শনিবার (১৩ মে) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদার ওগলুর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাতকারে তিনি এ দাবী করেন।

এরদোগান বলেন, আমরা স্বৈরাচারের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাইনি বরং গণতান্ত্রিক উপায়েই ক্ষমতায় গিয়েছি। দেশকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিইনি বরং শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করেছি।

ইউক্রেন সংঘাতের পশ্চিমাদের চক্ষুশূলে পরিণত হওয়া রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে কিলিচদার ওগলুর সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, শক্তিশালী দেশগুলো শক্তিশালী বন্ধনের কারণে গড়ে উঠেছে। কোনো রাষ্ট্রের যদি শক্তিশালী বন্ধন না থাকে কিংবা তা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় তাহলে তারা কোনোদিনও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না।

নির্বাচনে একে পার্টির পক্ষে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের ব্যাপারে এই প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব বলেন, কিলিচদার ওগলু কেনো রুশ প্রেসিডেন্টের পেছনে পড়েছেন তা আমার পক্ষে জানা ও বুঝা সম্ভব নয়। আর তা মেনেও নিতে পারছি না আমরা।

প্রেসিডেন্ট পদে ৩য় শক্তিশালী অবস্থানে থাকা হোমল্যান্ড পার্টির মুহাররম ইনচের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি মুহাররম ইনচের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তার সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছি যে, তার অবস্থান শক্তিশালী হতে থাকায় তিনি কামাল কিলিচদারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মূলত এর পরপরই তিনি অপবাদ ও অপপ্রচারের শিকার হোন।

তুরস্কের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিবেচিত হতে থাকা এরদোগান কুর্দি জনগোষ্ঠীর ব্যাপারেও কথা বলেন।

তিনি বলেন, পিকেকে নামে যে কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে তা মূলত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। আর স্বাধীন কুর্দিস্তানের স্বপ্ন দেখিয়ে ওই সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে আমাদের কুর্দি ভাইদের যুক্ত করার প্রচেষ্টা হলো মারাত্মক ধরণের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।

জানা যায়, ১৪ মে’র নির্বাচনে এরদোগানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রতি এরদোগানের পক্ষ হয়ে রাশিয়ান হ্যাকারদের অনলাইন অপতৎপরতার অভিযোগ আনেন। এজন্য তিনি সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেন এবং নির্বাচন পরবর্তী তুরস্কের ক্ষমতায় আসলে দেশটির সাথে তুরস্কের সম্পর্কচ্ছেদেরও ইঙ্গিত দেন।

রাশিয়া অবশ্য কামাল কিলিচদার ওগলুর এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছে এবং কঠোরভাবে তা প্রত্যাখান করে। আর তুরস্কের সাথে তাদের সম্পর্ক কেনো গভীর সেটিও তুলেও ধরে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এরদোগানের মধ্যস্থতা পালনের ভূমিকারও দারুণ প্রশংসা করে।

এছাড়া মুহাররম ইনচে প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আরোপ না করলেও এটুকু বলেছিলেন যে, আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি ঠিকই কিন্তু তা করছি শুধুমাত্র আমার মাতৃভূমির জন্য। মাতৃভূমির স্বার্থ রক্ষায় এটি সহায়ক হবে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্যালেসে এরদোগানের সাথে সাক্ষাৎ ও নির্বাচনে এরদোগানকে জয়ী করার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করতে অর্থগ্রহণেরও অপবাদ দেওয়া হয়।

যা আকারা-ইঙ্গিতে কিলিচদার ওগলুর কারসাজি বলেই প্রতীয়মান হয়।

এছাড়া ইনচের “মাতৃভূমির স্বার্থ রক্ষায় এটি সহায়ক হবে।” এই বক্তব্যটিও কিলিচদার ওগলুর বিরুদ্ধে দিকনির্দেশ করে।

কেননা সম্প্রতি কিলিচদার ওগলু বলেছিলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরকে এভিয়েশন ও স্পেস সেন্টারে রূপান্তরের জন্য আমেরিকান কোম্পানি এসএনসির হাতে তুলে দেওয়া হবে। যা তুরস্ক জুড়ে সর্ব মহলে তুমুল বিতর্কের পাশাপাশি অসন্তোষও সৃষ্টি করে। কারণ তা সরাসরি আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর তত্বাবধানে পরিচালিত একটি কোম্পানি।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ