spot_img
spot_img

ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে: তথ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের লুটপাটের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরার এক কমিউনিটি সেন্টারে আলোকিত মাহে রমাদান এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা এমন এক সময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি যখন বিগত সরকারের লুট করে যাওয়া অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার একটা ঋণের বোঝা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আমাদেরকে প্রতিবছর বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে ৫ বিলিয়ন ডলার । আমাদের রপ্তানি আয় বছরে মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো, আমাদের রেমিট্যান্সের ইনকাম ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার; অথচ আমাদেরকে ৬০-৭০ বিলিয়নের আমদানি করতে হয়। ফলে আমাদের একটা ঘাটতি অর্থনীতি এবং ঘাটতি বাজেট নিয়ে চলতে হয় এবং অতীতের সরকারের লুটপাটের অর্থনীতির দায় দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। অতএব এই সরকারকে এই ভাঙা অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির হাত থেকে দেশকে আবার স্বাবলম্বী করতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই কারণে আমাদের সমস্ত ভোটারদেরকে সজাগ করতে হবে যাতে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের এই জটিল সময়টাতে কেউ আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করতে না পারে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে আমরা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে তর্ক-বিতর্ক করছি এবং আমরা এই তর্ক-বিতর্ক আরো করব কারণ গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু কোনভাবেই আমাদের সংসদের গঠনমূলক তর্ক-বিতর্ক এবং সমালোচনা তা যেন রাজপথে কেউ নিয়ে আসতে না পারে এবং সেই অজুহাতে যাতে আবার রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে আপনারা সে ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।

তিনি বলেন, আগামী দুই বছর যদি একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ না থাকে তবে ভাঙা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা যাবে না। আমাদের যে শান্তিপূর্ণ দৈনন্দিন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন তা আমরা অব্যাহত রাখতে পারব না। অতএব প্রতিটি নাগরিককে আগামী দিনের বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নিশ্চিত করতে হবে, পাহারা দিতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র আমরা এই ধ্বংস করে দেওয়া আওয়ামী লীগের অর্থনীতিকে আবার আমরা ঘুরিয়ে আনতে পারব।

তিনি আরও বলেন, আমরা যারা কেবিনেটে বসি, দেশের নীতি নির্ধারণ নিয়ে কথা বলি, হিসাব তুলতে গেলে আমাদের সকলের মাথা খারাপ হয়ে যায়। এত ঘাটতি, এত টাকা কোথায় পাওয়া যাবে? আসমান থেকে তো টাকা আসবে না। অতএব, আগামী দিনের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সেই ক্ষেত্রে আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন আপনারা হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের আয়োজনকে আপনারা শেষ পর্যন্ত সামাজিক স্থিতিশীলতার উপাদানে পরিণত করবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতীব মুফতি আব্দুল মালেক, হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ