শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিলকিস বানুকে গণধর্ষণ করা হয়: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে, ২০০২ সালের গোধরা দাঙ্গায় বিলকিস বানুর সাথে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনাটিকে ধর্মের উপর ভিত্তি করে একটি “মানবতা বিরুদ্ধ অপরাধ” বলে ব্যাখা করেছেন সিনিয়র আইনজীবী ইন্দিরা জয় সিং।

গত বছরের ১৫ আগস্ট বিলকিস বানুকে গনধর্ষণ ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১১ আসামিকে মুক্তি দেয় গুজরাট সরকার।

তবে গুজরাট সরকারের “ক্ষমা নীতির” বিরুদ্ধে “পিআইএল” বা জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিলকিস বানু। বিচারপতি বিভি নাগারত্ন ও উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চে শুরু হয়েছে এই মামলার শুনানি।

পিআইএল আবেদনকারীদের মধ্যে অন্যতম ইন্দিরা জয় সিং আদালতে বলেন, গুজরাট সরকার নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষা করার পরিবর্তে গণধর্ষণ ও একাধিক খুনের সাথে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের সাজা মওকুফ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, “বিলকিস বানু যখন গণধর্ষণের শিকার হয় তখন তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। যেটি একটি ‘নিষ্ঠুর’,অমানবিক ও অপমানজনক কাজ।”

তিনি আরো বলেন, গুজরাট রাজ্যে সরকার দ্বারা নির্ধারিত নীতিটি ‘কোন ধরনের নীতিমালার’ অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এটি সুপ্রিমকোর্টের আইন ভঙ্গ করে। এছাড়াও এই নীতিটি অপরাধের শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি মওকুফ করতেও ব্যর্থ হয়েছে।

উকিল বৃন্দা গ্রভার আদালতকে বলেন, এই অপরাধটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেই সংগঠিত হয়নি বরং বলা চলে এটি মানবতা ও সমাজ উভয়ের বিরুদ্ধেই সংঘটিত হয়েছে।

এর পূর্বে, দোষীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত উকিল ঋষি মালহোত্রা জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতা করে বলেন, পিআইএল কর্মীরা মিডিয়ার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলার দারস্ত হয়েছে। এছাড়াও পিআইএল তৃতীয় একটি পক্ষের দ্বারা দায়ের করা হয়েছে যারা সরাসরি হামলার শিকার বিলকিস বানুর সাথে সম্পর্কিত নয়। তাই আদালতে এই মামলাটির কোন ধরনের আইনি অবস্থান নেই।

মামলার আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী) সদস্য সুভাষিনী আলি, অধ্যাপক রূপ রেখা ভার্মা এবং সাংবাদিক রেবতী লাউল৷

আদালতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু বলেন, পিআইএল কখনোই মওকুফ করা সাজার বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না। “কারণ কতটুকু সাজা হবে তার বিষয়ে তৃতীয় পক্ষ কোন কথা বলার অধিকার রাখে না।”

আদালত আগামী ১৭ই আগস্ট কেন্দ্র, রাজ্য সরকার ও দোষী পক্ষের আইনজীবীদের শুনানির জন্য দিন ধার্য করছে।

উল্লেখ্য; ২০০২ সালে গোধরা ট্রেন-পোড়ানোর ঘটনার পরে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা থেকে পালাতে গিয়ে গর্ভবতী বিলকিস বানো গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। দাঙ্গায় নিহত পরিবারের সাত সদস্যের মধ্যে তার তিন বছরের মেয়েও ছিল।

সূত্র: মুসলিম মিরর ও সুপ্রিম কোর্ট অবজারভার

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ