ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, রমজান মাসে রোজাদার মুসল্লিদের উপর ইসরাইলের পুলিশ যে বর্বর নৃশংসতা চালিয়েছে তা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নামাজরত মুসল্লি নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপর বর্বরতা চালিয়ে মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত করেছে। বিশ্বের শতকোটি মানুষের ধর্ম ইসলামের সম্মানজনক প্রতিকসমূহের ওপরে আঘাত করা ও অবমাননাকরা পশ্চিমাদের মানসিক রোগে পরিণত হয়েছে। মসজিদে আল আকসায় ইসরাইলী বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মেরুদন্ডহীন জাতিসংঘ, আরবলীগ ও ওআইসির ভূমিকায় মুসলিম উম্মাহ বিস্মিত। দখলদার সন্ত্রাসবাদি ইসরাইলের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে এসব সংস্থা-প্রতিষ্ঠান চরমভাবে ব্যর্থ। ইসরাইলকে সমুচিত জবাব দিতে বিশ্বমুসলিম উম্মাহ’র ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
আজ শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আল আকসা ও কানাডায় নামাজরত মুসল্লিদের উপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ইউনুছ বলেন, পবিত্র রমজান মাস চলাকালে টানা দ্বিতীয় রাতে এ হামলার ঘটনা মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কজনক ইতিহাস তৈরী হয়েছে। মহাসচিব আরো বলেন, কানাডায়ও নামাজরত মুসল্লিদের উপর বর্বর হামলার ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, ইসরাইলকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে ডিলেট করে দিতে হবে। এরা বিশ্বময় অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে রেখেছে।
বাংলাদেশ সরকারকে ইহুদিবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জোরালো ভুমিকা পালন করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ইসরাইলের পক্ষ নিলে আখের ভাল হবে না। কাজেই মুসলমানদের পক্ষাবলম্বন করুন, তীব্র প্রতিবাদ করুন, নিন্দা প্রস্তাব আনুন। আর মুসলমানদের দুঃসময়ে যারা রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম তুলে দেয়ার কথা বলে তারাও ইহুদিদের দোসর। এদেরকে চিহ্নিত করুন।
সংগঠনের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, উত্তর সেক্রেটারী মাওলানা আরিফুল ইসলাম, দক্ষিণ সেক্রেটারী ডা. শহিদুল ইসলাম, মুফতী ফরিদুল ইসলাম ও মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ প্রমুখ।
মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, আল-আকসা মসজিদ শুধু ফিলিস্তিন বা মধ্য প্রাচ্যের কাছে নয়, বরং সমগ্র মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটি আমাদের ভালবাসা ও প্রাণের স্পন্দন। এটি মুসলমানদের প্রথম কেবলা এবং পৃথিবীতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। আল আকসা মসজিদের এলাকা অসংখ্য নবী-রাসূলের স্মৃতিবিজড়িত সমাধি রয়েছে। কাজেই ইহুদি গোষ্ঠীদের আস্ফালন রুখে দিতে হবে। তিনি ফিলিস্তিনের মাটি থেকে জারজ ইসরাইলকে উচ্ছেদে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতেয়াজ আলম বলেন, ইসরাইলের জন্মই যে একটি আজন্ম পাপ তা আবারো প্রমাণ হলো। প্রতিবছর দফায় দফায় নিরিহ ফিলিস্তিনিদের ওপরে হামলা করা হয়। রমজান আসলেই ইহুদি দানব হিংস্র হয়ে ওঠে। তিনি বলেন,
বর্তমান জাতিসংঘ মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য মুসলমানদের পৃথক মুসলিম জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশ সরকারকে চলতি অধিবেশনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মঙ্গল শোভাযাত্রার তীব্র প্রতিবাদ করে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, ভিনদেশ সংষ্কৃতি মঙ্গল শোভাযাত্রা মুসলমানদের কোন উৎসব হতে পারে না। এটা হিন্দুয়ানি উৎসব। মাদরাসা ও স্কুলে পহেলা বৈশাখের কোন কর্মসূচি হতে পারে না। এটা করলে হিন্দু সম্প্রদায় করুক। মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তার আখের ভাল হবে না। তিনি হজ্জ প্যাকেজের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রেখে হজ্জকে সহজ করে দেয়ার দাবি জানান।
শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্রাংকির সামনে গিয়ে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে মাধ্যমে শেষ হয়।










