ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের হাতে জিম্মি থাকা পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে আনতে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করছে ইসরাইলী জিম্মিদের পরিবার।
রবিবার (১৪ এপ্রিল) নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ও পতাকা হাতে এবং রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে তারা।
অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শত শত ইসরাইলী ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের পতাকা ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করছেন। অনেককে এসময় রাস্তায় আগুন জ্বালাতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা হামাসের হাতে জিম্মি থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে ফিরিয়ে আনার, নেতানিয়াহু ও ইসরাইলী যুদ্ধ কেবিনেটকে নির্মম গণহত্যা বন্ধের ও হামাসের শর্ত মেনে নেওয়ার দাবী জানাতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন নেতানিয়াহুর সরকার তাদের পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়েছে। অবরোধ ও হামলা অব্যাহত থাকায় জিম্মি থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রাণ হারাচ্ছেন। বহু আগেই নেতানিয়াহু ও তার সরকার ইসরাইলীদের আস্থা হারিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ব্রিটেন, আমেরিকা ও ইউরোপের প্রত্যক্ষ মদদে ইসরাইল পরিচালিত গাজ্জা গণহত্যায় এখন পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেছেন ৩৩ হাজার ৬৮৬ ফিলিস্তিনি এবং আহত হোন ৭৬ হাজার ৩০৯ জন।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক ভাবে চাপ সৃষ্টি হলেও ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামীদের নেতৃত্ব দেওয়া ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শর্ত মেনে চুক্তিতে যেতে নারাজ ব্যর্থ ইসরাইল।
সম্প্রতি কায়রোতে হামাসের সাথে বন্দী বিনিময় ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে নিজেদের প্রতিনিধি দল পাঠালেও বৈঠক চলাকালীন গাজ্জায় হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়ার ৩পুত্র ও বেশ ক’জন নাতীকে হত্যা করে অবৈধ রাষ্ট্রটির সেনারা। এতে বন্দী বিনিময় ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা আবার থমকে যায়।
এর আগে আমেরিকান স্পেশাল ফোর্স ও ব্রিটিশ রয়েল আর্মির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক পরিকল্পনা সাজিয়েও হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ১৮০ নাগরিকের হদিস পায়নি অবৈধ রাষ্ট্রটির সেনারা। বরং জিম্মিদের বিভিন্ন হাসপাতালের ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা হয়েছে এই সন্দেহে ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস অভিযান পরিচালনা করে বসে। ধ্বংস করে দেয় একের পর এক হাসপাতাল। গ্রেফতার করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। হত্যা করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণরত নিরপরাধ ও চরম অসহায় ফিলিস্তিনিদের।
অপরদিকে হামাস তাদের দাবী রক্ষা ও স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা দেখিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দলটির শীর্ষ নেতা খালেদ মিশাল শাহাদাত বরণকারী হানিয়া পুত্র ও নাতীদের এক শোকসভায় ইসরাইলকে চুরমার করে দেওয়ার হুমকি দেন।
সূত্র: আনাদোলু











