বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

মুহাররমের রহস্যময় বার্তা; তাহলে এরদোগানের পক্ষেই তার অবস্থান?

আজ তুরস্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে এখন পর্যন্ত দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন।

রবিবার (১৪ মে) কাউকে সমর্থন না দিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানো হোমল্যান্ড পার্টির মুহাররম ইনচেও অন্যান্য নাগরিকদের মতো ভোট প্রদান করেন।

তিনি তার বন্ধু ফিদেল ওকানকে সাথে নিয়ে রাজধানী আঙ্কারায় তার নিকটস্থ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন।

ভোট দিয়ে আসার পর ফিদেল ওকান তার বন্ধু ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৩য় অবস্থানে থাকা মুহাররম ইনচের মন্তব্য তার টুইটার একাউন্ট থেকে প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আমি আজ আমার বন্ধু ও সমর্থকদের ভোট দিয়ে এসেছি যাতে কিলিচদার ওগলু আজকের পর থেকে তার নাতী-নাতনীর সাথে রাজনৈতিক চাপমুক্ত নিশ্চিন্ত জীবন কাটাতে পারে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ মে) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, “তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এমন অপবাদ কখনোই পরিলক্ষিত হয়নি। এসবে আমি মোটেও ভীত নই। কারণ আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি ঠিকই কিন্তু তা করছি শুধুমাত্র আমার মাতৃভূমির জন্য। মাতৃভূমির স্বার্থ রক্ষায় এটি সহায়ক হবে। ”

জানা যায়, সম্প্রতি মুহাররম ইনচের বিরুদ্ধে প্যালেসে এরদোগানের সাথে সাক্ষাৎ ও নির্বাচনে এরদোগানকে জয়ী করার লক্ষ্যে ভূমিকা পালন করতে অর্থগ্রহণের অপবাদ দেওয়া হয়েছিলো এবং আপত্তিকর ফেইক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো যার প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এছাড়া ইনচের “মাতৃভূমির স্বার্থ রক্ষায় এটি সহায়ক হবে।” এই বক্তব্যটিও কিলিচদার ওগলুর বিরুদ্ধে দিকনির্দেশ করছিলো। কেননা কিলিচদার ওগলু এক নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরকে এভিয়েশন ও স্পেস সেন্টারে রূপান্তরের জন্য আমেরিকান কোম্পানি এসএনসির হাতে তুলে দেওয়া হবে। যা তুরস্কের সর্ব মহলে তুমুল বিতর্কের পাশাপাশি অসন্তোষও সৃষ্টি করে। কারণ তা সরাসরি আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর তত্বাবধানে পরিচালিত একটি কোম্পানি।

এছাড়াও তিনি শুরুতে মুহাররম ইনচেকে নিজের দলেও ভিড়াতে চেয়েছিলেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর কিলিচদার ওগলু আবারো তাকে তার জোটে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছিলেন, “ইনচেকে আমাদের জোটে শরীক হওয়ার আহবান জানিয়েছিলাম। সেই পথ এখনো তার জন্য খোলা রয়েছে। পুরোনো বৈরিতা ও দ্বন্দ্ব একপাশে রেখে তাকে আবারো বলতে চাই, আপনাকে তুর্কি টেবিল (ন্যাশনাল এলায়েন্স/সিক্স টেবিল) জোটে স্বাগতম। আপনি দয়া করে এখানে আসুন।”

শনিবার (১৩ মে) সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাতকারে প্রদত্ত এরদোগানের বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট পদে ৩য় শক্তিশালী অবস্থানে থাকা হোমল্যান্ড পার্টির মুহাররম ইনচের অবস্থান শক্তিশালী হতে থাকায় তিনি কামাল কিলিচদারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মূলত এর পরপরই তিনি অপবাদ ও অপপ্রচারের শিকার হোন।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ