ভারতে মুসলিম তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করলো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) মুসলিম মিররের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মহারাষ্ট্রের জামনার তালুকের চোটি বেতাওয়াড়ে সুলেমান রহিম নামের ২১ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
সুলেমান রহিম সদ্যই ১২ পাশ করা একজন মুসলিম তরুণ। হামলার পূর্বে পুলিশে নিয়োগের জন্য আবেদনও জমা দিয়েছিলো। পরবর্তীতে বাসায় ফিরলে ১৫ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল তার বাড়িতে এসে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তার মা, বোন ও পরিবারের সদস্যদের পেটানো হয়।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা সুলেমানকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। রড, লাঠি ও হাত দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। পরবর্তীতে তাকে তার এলাকার নিকটে এনে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পুনরায় দৌঁড়ে দৌঁড়ে মারতে থাকা হয়। চোটি বেতাওয়াড়ে এভাবে তার বাড়ি পর্যন্ত দৌড়ে দৌড়ে মারা হয়। তার শরীর নিথর হয়ে পড়লে বাড়ির একেবারে সামনে নিয়ে ফেলা হয়। তার পরিবারের লোকজন এসময় তাকে তুলতে গেলে তাদের নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তার নিথর শরীর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, ১৫ জনের অপরাধী দলটি এর আগে একটি ক্যাফেতে সুলেমানকে হুমকি দিয়েছিলো। সুলেমান তখন ক্যাফেতে অন্য (হিন্দু) সম্প্রদায়ের ১৭ বছর বয়সী একটি মেয়ের সাথে অবস্থান করছিলো।
সুলেমানের পরিবারের অভিযোগ, তার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চিতে চেরা ও বেদম মারধরের দাগ ছিলো। তার পিতা রহিম খান ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করার সময় হিন্দুত্ববাদীদের দলটি তাকে, তার স্ত্রী ও মেয়েকেও নৃশংসভাবে আক্রমণ করে।
এই ঘটনায় এলাকাটির পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। নিহত সুলেমানের পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী এবং স্থানীয়রা অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় জামনার পুলিশ স্টেশনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদের জেরে জলগাঁওয়ের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মহেশ্বরী রেড্ডি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হত্যা, অপহরণ, দাঙ্গা ও অবৈধ গ্রুপিংয়ের অভিযোগে বিএনএস-এর অধীনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে।
পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট মহেশ্বরী রেড্ডির সাথে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। এছাড়া আরো ৫ অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন, যাদের ধরতে শীগ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।










