spot_img
spot_img

সিলেটে আবারও বন্যার হানা

শঙ্কার বার্তা ছিল আগে থেকেই। সেই শঙ্কাকে সত্যি করে সিলেটে ফের হানা দিলো বন্যা। এক মাসও হয়নি। আগাম বন্যার কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সিলেটবাসী। তবে সে বন্যার ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি বন্যার্তরা। এরই মধ্যে সিলেটে আবারও দেখা দিলো বন্যা। গত কয়েকদিনে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছের সিলেটে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকায়। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় দফার বন্যায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, আবারও পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে সিলেট সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল। ডুবে গেছে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ। পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে সিলেটের নদী সুরমা পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এক মাসের মাথায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে।উপজেলা সদরের সঙ্গে অনেক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার (১৫ জুন) সকালেও কয়েক দফা ভারি বৃষ্টি হয়েছে।

এ কারণে যেখানে হাঁটু পানি ছিল, সেখানে দেখা দিয়েছে কোমরসমান পানি। বাড়িতে পানি ঢুকায় গবাদিপশু কোথায় রাখবেন, এ নিয়েও অনেক গৃহস্থ চিন্তায় রয়েছেন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ, স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং ব্যবসায়ী।

উপজেলার খাদিমনগর, খাদিমপাড়া, টুকেরবাজার, জালালাবাদ, মোগলগাঁও, কান্দিগাঁও, হাটখোলা ইউনিয়নের প্লাবিত। বিভিন্ন হাট-বাজার, মসজিদ, স্কুল-মাদ্রাসাসহ ভিটে-বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্লাবিত এলাকায় সরকারি ত্রাণ পৌঁছানোর দাবিও জানিয়েছেন। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় সাপের আতঙ্কও দেখা দিয়েছে জনমনে। খাদিমনগর ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ সহ বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, কমিউনিটি ক্লিনিক, স্কুল, মসজিদ, রাস্তাঘাট, ক্ষেত ও বীজতলা।

খাদিমপাড়া মুরাদপুর, সোনাপুর, মিরের চক, নয়া মসজিদ, মুক্তির চক, ধনকান্দি, পাচঘরি, কল্লোগ্রামের একাংশ, ইসলামাবাদ, বালুটিকর, বংশিধর, পলিয়া, দেওয়ানের চক, মাজরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে।

টুকেরবাজার, সাহেবেরগাঁও, চরুগাঁও, শেখ পাড়া, ওয়ার্ডের হায়দরপুর, পীরপুর, শাহপুর, ওয়ার্ডের টুকেরগাঁও, গরীপুর, শাহপুর, ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও, ওয়ার্ডের শাহপুর তালুকদার পাড়া, নওয়াপাড়া, মইয়ারচর, খুরুম খলাও। মোগলগাঁও ইউনিয়নের প্রায় ঘর-বাড়ী রাস্তাঘাট স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে।

কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল, জাংগাইল, মিরপুর, গোবিন্দপুর, মিরের গাও, চামাউরাকান্দি, নীলগাঁও, নলকট। জালালাবাদ ইউনিয়ন, হাটখোলা ইউনিয়ন পানী বন্ধি।

সদর উপজেলা নলকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিক বলেন, স্কুলে পানি উঠেছে, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ।

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত আজমেরী হক গণমাধ্যমকে জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমাদের মনিটরিং সেল থেকে ওই এলাকাগুলোর খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবার সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ