spot_img
spot_img

ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষা করে আইন প্রণয়ন আত্মঘাতী: মাওলানা মামুনুল হক

জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধ উপেক্ষা করে কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া আত্মঘাতী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের সমালোচনা করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, এ বিল নিয়ে দেশের আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উচিত ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা এবং জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগের অবসান ঘটানো।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। অন্যথায় এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার পরামর্শে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সরকারের জন্যও শুভ ফল বয়ে আনবে না। তাই ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর একটি স্থিতিশীল ও গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তারা সরকারকে সহযোগিতা করেছেন।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন বিতর্কিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অত্যন্ত হতাশাজনক ও আত্মঘাতী। সরকারের উচিত জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, এসব সংকট সমাধানে শুধু আশ্বাস দিলে হবে না। সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্নীতি ও দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় পরিচয়ের প্রভাব, দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোর হাতে দমন করা না হলে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর রাষ্ট্র ও প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কোথায়, সে প্রশ্ন জনগণের মধ্যে আরও জোরালো হবে।

তিনি বলেন, জনগণ পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনমনে সৃষ্ট অসন্তোষ ভবিষ্যতে নতুন করে গণআন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বৈঠক পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ