পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর বিধিনিষেধের ১০০ দিন পার হয়েছে। নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, টানা ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং ও শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আল জাজিরার সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৪৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের দখলে থাকা কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য এলাকায় বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত। এই ১২টি আসন বাতিলসহ রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি।
গত ৫ জুন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে। একই সময় অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গত ২৭ জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতের এই সংখ্যা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
অস্থিরতার কারণে অঞ্চলটির নির্বাচনও একসঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তিন ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১০ আগস্ট শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে আন্দোলনের কয়েকটি শক্ত ঘাঁটিতে ভোটগ্রহণ করা যায়নি। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠন করা হয়।
তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়নি।
দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রবেশ করতে না পারায় আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্টারনেট সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষকে ভর্তি পরীক্ষাও পিছিয়ে দিতে হয়েছে।
এদিকে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ বহাল থাকলেও তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে কবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
সূত্র : আল জাজিরা











