ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান অস্পষ্ট এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় না থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, যে ২৬৮টি আসনে তাদের প্রার্থিতা টিকে আছে, সেখানে তারা এককভাবে নির্বাচন করবে। বাকি ৩২ আসনে আদর্শিক বিবেচনায় কোনো না কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামের অস্পষ্ট অবস্থান এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সেই কারণে যে ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীতা টিকেছে সেই ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করবে। বাকি ৩২ আসনেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আদর্শিক বিবেচনায় কোন না কোন প্রার্থীকে সমর্থন জানাবে।”
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শরীয়াহ আইনে দেশ পরিচালনা করবে কিনা এমন প্রশ্নে জামায়াতের আমীর বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবেন। তিনি বলেন, দেশের সকল মানুষ একমত যে, দেশের বর্তমান দুর্দশার কারণ বিদ্যমান আইন। সেই বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করার জন্যই তাদের রাজনীতি। তিনি বলেন, এখন যদি সমঝোতার প্রধান দলই বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনার প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে তারা শঙ্কিত হন। তিনি বলেন, তারা নীতির রাজনীতি করেন এবং রাজনীতির সেই মৌলিক প্রশ্নে যখন ভিন্নমত তৈরি হয়, তখন তাদের সাথে সমঝোতায় থাকার কোনো সুযোগ নাই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র বলেন, জামায়াতের আমীর বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাথে বৈঠক করে বিএনপির সাথে জাতীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছেন, খালেদা জিয়ার তৈরি করা ঐক্যের পাটাতনের ওপরে কাজ করার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, এই বক্তব্য তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে এবং পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় থাকা সমীচীন মনে করে নাই।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, তারা ইসলামের পক্ষে একটি সমঝোতার নীতি নিয়েছিলেন। কিন্তু জামায়াতের প্রধান্যে যে সমঝোতা গড়ে উঠেছে, তা আর ইসলামের পক্ষের সমঝোতা থাকছে না, একই সাথে এর রাজনৈতিক লক্ষ্যও পরিষ্কার না। তিনি বলেন, সেজন্যই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সমঝোতায় থাকছে না।











