spot_img
spot_img

হাসপাতাল দখল মামলায় আ.লীগ নেতাসহ আসামি ৬৭

ফেনী শহরের সেনসিভ হাসপাতাল দখল করে তালা লাগানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শুসেন চন্দ্র শীলসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে মামলাটি করেন হাসপাতালটির ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন্নাহার।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামি শুসেন চন্দ্র শীল ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। মামলার অপর আসামিরা হলেন— সোনাগাজী উপজেলার গুণক গ্রামের আবদুর রবের ছেলে আবদুল আউয়াল সবুজ, ফেনী সদর উপজেলার বারাহিপুর গ্রামের এমরান হোসেনের ছেলে আবির হোসেন, মধ্যম ধলিয়া গ্রামের শামসুল করিম প্রকাশ কালা মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম, ইজ্জতপুর গ্রামের মৌলভী আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল আউয়াল, সাঁড়াশিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে আজাহার, জালাল আহমেদ বধির ছেলে রাজিব আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬০ জন।

বাদী ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিমের সহধর্মিণী লুৎফুন্নাহার।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, ফেনী ট্রাংক রোডস্থ সেনসিভ হাসপাতালটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করে আসছেন। ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ১, ২ ও ৩নং আসামিসহ অন্যরা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই সময় তিনি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন, যার পিটিশন নং-১২৩/১৮।

পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে বাদী সরল বিশ্বাসে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা সশস্ত্র অবস্থায় হাসপাতালে প্রবেশ করে বাদী ও হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে খুঁজতে থাকেন। তাদের না পেয়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স, চিকিৎসকসহ কর্মচারীদের জিম্মি করেন। এর পর তাদের হাসপাতাল ত্যাগের নির্দেশ দেন। চিকিৎসক-কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগে অনীহা দেখালে তাদের কিল, ঘুষি মেরে আহত এবং নারী নার্সদের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করেন।

একপর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালক ফজলুল হক মুন্নাকে ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকের চাবি নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে থাকা নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা, ক্যাশে থাকা এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ দেড় লাখ টাকা এবং পাঁচটি ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান কাগজপত্র আসামিরা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ক্যাবিনে এবং ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের হাসপাতাল ত্যাগে বাধ্য করে। রোগীরা নিজ উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন। হাসপাতালে কর্তব্যরতদের বের করে দিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যাওয়ার সময় দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধ না করে তালা খোলার চেষ্টা করলে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পরিচালককে গুলি করে হত্যা এবং হাসপাতালে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। এর পর আসামিরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়।

এ অবস্থায় হাসপাতালে রক্ষিত প্রায় এক কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরি, ল্যাবে রোগীদের স্যাম্পল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে আসামিরা হাসপাতালের সাইন বোর্ডটিও খুলে নিয়ে যায়।

মামলার বাদী ও হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন্নাহার বলেন, আমি সম্পূর্ণ সত্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আদালতে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় মামলা করেছি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।

এ ব্যাপারে ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুশেন চন্দ্র শীলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও সেটিটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আদালতে বাদী পক্ষের আইনজীবী নুর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে মামলাটি করেন হাসপাতালটির ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন্নাহার। আজ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ