প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যমে স্বৈরাচারের পক্ষে যত বয়ান তৈরি হয়েছে, তার সবকিছু নথিভুক্ত করা হবে।।”
তিনি বলেন, “১-৩৬ জুলাই গণমাধ্যমের ভূমিকা ডকুমেন্ট করা হবে। অনেক গণমাধ্যম শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের হত্যার বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ সাংবাদিকতা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু গণমাধ্যম শুধু এক মাস নয়, বরং আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামল জুড়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে বয়ান তৈরি করেছে এবং স্বৈরাচারকে শক্তিশালী করেছে। এসব ভূমিকা ইতিহাসে নথিভুক্ত থাকবে।”
আজ রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী বয়ান: ফিরে দেখা ১ থেকে ৩৬ জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “অনেক সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আবার অনেকে ট্রমাটাইজ হয়েছেন। তবে কিছু গণমাধ্যম সাহসী ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করেছে, আর কিছু গণমাধ্যম স্বৈরাচারকে টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বাচলের প্লট পাওয়ার জন্য অনেক সাংবাদিক সরকারপন্থী ভূমিকা পালন করেছেন। এটি ভয়াবহ সাংবাদিকতা, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
গণমাধ্যম সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে এবং সত্য প্রকাশে ভয় পাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সরকার তদন্ত করবে না, কারণ তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে গবেষণার মাধ্যমে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীন সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সব সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। যত শক্তিশালীই হোক, সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”









