ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘুতিকে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দি রাখার ২৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারে তার ওপর ধারাবাহিক সহিংস নির্যাতন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী বেন মারমারেলি।
আইনজীবী বলেন, ২৫ মার্চ উত্তর ইসরাইলের মেগিদ্দো কারাগার থেকে গানোত কারাগারে স্থানান্তরের সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এর আগের দিন কারারক্ষীরা একটি কুকুর নিয়ে তার সেলে ঢুকে তাকে মেঝেতে শুতে বাধ্য করে এবং কুকুরটি বারবার তাকে আক্রমণ করে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) তার আইনজীবীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আইনজীবী বেন মারমারেলি ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক মিডিয়া অফিসের টেলিগ্রাম পাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানান, ২০০২ সাল থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা বারঘুতির ওপর মার্চ ও এপ্রিল মাসে অন্তত তিনটি হামলা হয়েছে, যা তিনি ‘ক্রমবর্ধমান লঙ্ঘনের ধারা’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ৬৬ বছর বয়সী বারঘুতি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ আন্দোলনের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। গত ৮ এপ্রিল মধ্য ইসরাইলের গানোত কারাগারে তাকে গুরুতরভাবে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, চিকিৎসার জন্য তার অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
তার গ্রেপ্তারের ২৪তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে ‘ফ্রি মারওয়ান’ আন্তর্জাতিক প্রচারণা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, মেগিদ্দোতে নির্জন কারাবাসে এবং দক্ষিণ ইসরাইলের রামোন কারাগারে একাকী বন্দিত্বে থাকা অবস্থায় বারঘুতির ওপর ‘নতুন করে নৃশংস হামলা’ চালানো হয়।
আইনজীবী তার সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার সাক্ষাতের পরিস্থিতিকে ‘কঠোর ও অমানবিক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, কাঁচের দেয়ালের ওপার থেকে চিৎকার করে কথা বলতে হয়েছে তাদের। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বারঘুতি তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, মনোযোগী এবং কারাগারের বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।











