শুক্রবার | ৩০ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

দাঙ্গার দুই সপ্তাহ পরেও নূহ জেলার পরিস্থিতি থমথমে, গুরুগ্রাম ছেড়েছে শতাধিক নির্যাতিত মুসলিম

গত ৩১ জুলাই ভারতের হারিয়ানা রাজ্যের নুহ জেলায় একটি ধর্মীয় মিছিলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। যেখানে ছয় জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হয়। এ ঘটনার পর চারিদিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তবে এসব করেও থামানো যায়নি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের। তারা গুরুগ্রামে মুসলিমদের মালিকানাধীন দোকানপাট, মসজিদ ও ফুটপাতের বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলিতে হামলা চালায়। যার ফলে গুরুগ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয় শতাধিক মুসলিম।

এ ঘটনার পর কেটে গেছে দুইটি সপ্তাহ। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি।

৩১ জুলাই উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণের ভয়াবহতায় গ্রাম ছাড়েন ইমরান আলী। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক। দাঙ্গার দুই সপ্তাহ পর গুরুগ্রামে ফিরে এসেছেন শুধুমাত্র তার জিনিসপত্র নিয়ে যেতে।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার পরিবার আমাকে কঠোরভাবে গুরুগ্রামে কাজ করতে যেতে বাধা দিয়েছে। তারা টাকা চায় না, তারা চায় আমি যেন এখান থেকে ফিরে যাই।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার করছে। যা থেকে তিনি এরকম একটি ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির ধারণা করছিলেন।

তিনি আরো বলেন, “অধিকাংশ হিন্দুই মনে করে নূহ জেলায় দাঙ্গার ঘটনায় মুসলিমরা জড়িত ছিল, কিন্তু এটি সত্য নয়। হিন্দুদের মত আমরাও ভারতীয়।”

দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের একটি মিছিল থেকে। এ বিষয়ে তিনি জানান, মিছিলের সময় সেখানকার হিন্দুরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অশালীন স্লোগান দিচ্ছিল।

নূহ জেলায় সংগঠিত দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে গুরুগ্রামে। দাঙ্গা থামাতে ব্যর্থ হয় গুরুগ্রাম পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৩০ জনকে আটক করেছে নূহ জেলা পুলিশ যার ৭৯ জন গুরুগ্রামের বাসিন্দা।

দাঙ্গার ভয়াবহতায় গুরুগ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় আহমাদ খান নামক এক ব্যক্তি বলেন, “উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলো প্রকাশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রচার করছে। তারা আমাদের বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের দোকান থেকে কোন দ্রব্য ক্রয় করছে না। এছাড়াও আমাদের বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে না। তারা আমাদের ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে। যার ফলে ইতিমধ্যে গুরুগ্রাম ছেড়েছে শত শত মুসলমান।”

তিনি আরো বলেন, “গ্রাম ছেড়ে যাওয়া মানুষদের মধ্যে হয়তো কিছু লোক ফিরে আসবে। তবে পুলিশ এবং প্রশাসন নিজেদের দেশেই মুসলমানদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

আহমেদ বলেন, “হিন্দুরা মনে করে এই দেশের পুলিশ, প্রশাসন এমনকি সরকারি রাস্তাটাও তাদের। আমাদের মুসলমানদের এই দেশে যেন কোন অধিকারই নেই।”

উল্লেখ্য; দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর মুসলিমদের দোকানপাটে আগুন ও ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়াও গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৭ তে অবস্থিত একটি মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। যেখানে মসজিদটির ইমাম নিহত ও পাঁচজন আহত হয়।

সূত্র: মুসলিম মিরর

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ