ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বন্যা বয়ে দিচ্ছে ভারতীয়রা।
ভারতের অন্যতম নামকরা ফ্যাক্ট-চেকিং পরিষেবা “বুম” জানিয়েছে, ‘ব্লু টিক’ ভেরিফিকেশন টুইটার আইডি থেকে এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভ্রান্তিমূলক এসব তথ্য কয়েক মুহূর্তেই হাজার হাজার শেয়ারের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
বুম এর অনুসন্ধানে বেশ কয়েকটি এরকম পোস্ট উঠে এসেছে।
উদাহরণস্বরূপ, জেরুসালেমের একটি স্কুলে ভ্রমণরত বেশ কয়েকজন নারীর বেশ আগের একটি ভিডিও নিয়ে অপপ্রচার করতে দেখা যায় ‘ব্লু টিক’ ভেরিফিকেশন টুইটার আইডি থেকে। যেখানে দাবি করা হয়, কয়েক ডজন তরুণীকে যৌনদাসি হিসেবে বন্দী করেছে হামাস।
এ ভিডিওটি হাজার হাজার শেয়ার হয়েছে। রিয়াক্ট এসেছে ৬ মিলিয়ন যার বেশিরভাগই ভারতীয়।
যার মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ভিডিও হল, হামাসের দ্বারা একটি ইহুদি শিশুকে অপহরণ ও তার গলা মাথা থেকে ছিন্ন করে ট্রাকের পিছে ঝুলিয়ে দেওয়া।
বিভ্রান্তিকর এ ভিডিওটি কয়েক মিলিয়ন মানুষ দেখেছে। যদিও বুম এর অনুসন্ধানে ভিডিওটির সাথে গাজ্জা বা কোন ধরনের অপহরণের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে উঠে এসেছে।
এরকম হাজার হাজার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে রীতিমতো ইসলামোফোবিয়া সৃষ্টি করছে ভারতীয় হিন্দুরা।
এসব ভিডিও শেয়ারের সময় একটি বড় অংশকে হ্যাশট্যাগ হিসেবে ‘ইসলাম একটি সমস্যা’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং পরিষেবা ‘বুম’ জানায়, এসব টুইটার একাউন্ট থেকে ইসরাইলকে সমর্থনের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের কে মৌলিকভাবে নৃশংস হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য; বর্তমানে এটি ওপেন সিক্রেট যে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর পরই দেশটিতে মুসলিমদের নির্যাতনের পাশাপাশি ইসলামোফোবিয়া নারকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা











