শনিবার | ১৭ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ইরানে বিক্ষোভে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য ট্রাম্প দায়ী: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে সংঘটিত বিক্ষোভে হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পেছনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই মূল অপরাধী।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানী তেহরানে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক এই ফিতনা বা ষড়যন্ত্রের সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন এবং ফিতনাকারীদের উৎসাহ ও সমর্থন জুগিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলছি, সাম্প্রতিক এই ফিতনায় আমেরিকার লক্ষ্য ছিল ইরানকে গিলে ফেলা।”

অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিক্ষোভ

অবনতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে গত মাসের শেষদিকে তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা ধীরে ধীরে ইরানের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

৮ জানুয়ারি পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে ওঠে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইরানের সাবেক এক সম্রাটের ছেলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামতে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষে বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে শত শত হতাহতের খবর পাওয়া যায়।

দাঙ্গা ও গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভগুলোকে দাঙ্গাকারীরা ছিনতাই করে নেয়। তাদের দাবি, এসব দাঙ্গাকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার সমর্থন পেয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী তেহরানসহ সারা দেশে সরকারি ভবন, পুলিশ স্টেশন, দোকানপাট, ব্যাংক ও মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নিহতের সরকারি সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকার ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

খামেনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটনের সব প্রশাসনই ইরানের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করেছে।

তিনি বলেন, অতীতে পশ্চিমা গণমাধ্যমের কিছু ব্যক্তিত্ব এই কাজে যুক্ত থাকত। কিন্তু এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই সশস্ত্র ফিতনাকারীদের উৎসাহ দিয়েছেন।

খামেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ইরানের ভেতরে কিছু ব্যক্তিকে চিহ্নিত ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাতে ভয় সৃষ্টি করা যায় এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালানো যায়। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের একটি বড় অংশকে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে দাঙ্গাকারীরা ২৫০টি মসজিদ পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ব্যাংক ও দোকানেও হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধ নয়, তবে শাস্তি হবে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে “দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের” শাস্তি না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।

তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, অবস্থা ভালো নয় এবং জনগণের জীবনযাপন বাস্তবেই চরম চাপে রয়েছে।

খামেনি কর্তৃপক্ষকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পণ্য, পশুখাদ্য, খাদ্যসামগ্রী ও মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিচার বিভাগের অবস্থান

খামেনির এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন এবং ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া বন্ধ করেছে।

তবে ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সাম্প্রতিক বিক্ষোভে জড়িত কাউকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটোর

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ