রাষ্ট্রীয় বরাদ্দে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
তিনি বলেছেন, দলমত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টন করতে হবে। দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুবিধাভোগী ৩০০ পরিবারের মাঝে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে থাকলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের এক পয়সাও তছরুপ হয় না, ভবিষ্যতেও হবে না। জনগণের জন্য যা বরাদ্দ হয়, তা জনগণের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করা হবে।
উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিগত ৫৫ বছরে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল, তারাই দেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে সংখ্যালঘু আখ্যায়িত করেছে। সরকার নাগরিকদের জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করে সমাজে এক ন্যক্কারজনক বৈষম্য তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী জাতিগত বিভাজনে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। জামায়াত বিশ্বাস করে, সমাজের প্রতিটি মানুষ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে এক এবং অভিন্ন।
সরকারের ব্যর্থতা ও প্রচলিত ব্যবস্থার কারণে মন্দির পাহারা দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার হলে হিন্দুদের পূজা বা উৎসব পালনের জন্য পাহারা দিতে হবে না। মসজিদ যেভাবে পাহারা দিতে হয় না, মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ও তেমনি পাহারা দিতে হবে না।
রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের জন্য দলমত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত ৩০০ শাড়ি অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। এ সময় বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বাউফল উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং মন্দির পরিচালনা কমিটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।











