তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, ইসরাইল এমন এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে যারা নিজেদের অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং ক্রমান্বয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানী আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এরদোগান বলেন, গাজ্জা থেকে শুরু হওয়া এই হামলা একে একে ইয়েমেন, লেবানন এবং সবশেষে ইরানে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কেবল নিরাপত্তা রক্ষা বা আত্মরক্ষার কোনো কারণ নেই; বরং এর পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে যা বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব ব্যবস্থার বর্তমান সংকটকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের এক ঐতিহাসিক ভাঙন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ইসরাইল গত ১৭ দিন ধরে কোনো প্রকার কর্তৃত্ব বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ ইবাদতকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, তথাকথিত প্রতিশ্রুত ভূমির উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু করে পৃথিবী ধ্বংসের নানা পৌরাণিক আখ্যানকে কেন্দ্র করে ইসরাইল যে ন্যারেটিভ তৈরি করছে, তা মোটেও কাকতালীয় নয়; বরং অত্যন্ত পরিকল্পিত। এই রাষ্ট্রীয় উন্মাদনা ও বর্বরতাকে বিশ্ববাসীর কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি।
এরদোগান সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের এই বিস্তার যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয় তবে তা কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপিয়ে দেওয়া এজেন্ডা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত বাস্তবতা এবং ইসরাইলের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তুরস্কের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মোড় কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি










