ঘুস লেনদেনের মামলায় তিন বছরের জন্য দণ্ডিত পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের দণ্ড কেন বাড়ানো হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মাদ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মুহাম্মাদ ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মাদ খুরশীদ আলম খান।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ মামলায় রায় দেন। রায়ে দুদকের বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে আট বছর ও পুলিশের বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে তিন বছর কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া বাছিরকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এর মধ্যে ঘুস লেনদেনের অভিযোগে মিজানকে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় ও বাছিরকে দণ্ডবিধির ১৬৫(এ) ধারায় তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অপরদিকে, মানি লন্ডারিং আইনের ৪ ধারায় বাছিরকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বাছিরের দুটি দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে তাঁকে পাঁচ বছর দণ্ড ভোগ করতে হবে৷
তবে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হলেও একই ধরনের অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ায় এ ধারায় কাউকেই সাজা দেওয়া হয়নি। এরপর দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন মিজানুর রহমান ও খন্দকার এনামুল বাছির। এ ছাড়া মিজানুর রহমানকে অর্থ পাচার আইনে খালাসের বিরুদ্ধেও আপিল করে দুদক।
আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, দণ্ড বিধি অনুযায়ী মিজানুর রহমানকে তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়নি। এ ধারায় সাত বছরের সাজা আছে। তাই, দুদক সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করেছে।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমানের পক্ষে তাঁর আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী শুনানি করেন।
অপরদিকে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাছিরের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমানের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন।
৪০ লাখ টাকার ঘুস কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ দুদকের পরিচালক শেখ মুহাম্মাদ ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের একই কর্মকর্তা।










