spot_img
spot_img

হুথি মোকাবিলায় সৌদিকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর অগ্রযাত্রা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান। তবে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরা ইংলিশের এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওসের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সময় গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেন সৌদি যুবরাজ। তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে আমেরিকান সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তবে ট্রাম্প সরাসরি অভিযানে অংশ নিতে সম্মত হননি বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।

এরপর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জরুরি সমন্বয় আলোচনার জন্য সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ সফর করেন। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সফর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক অভিযানে না জড়িয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার পথ খুঁজছে।

সৌদি যুবরাজকে আশ্বস্ত করার চেষ্টাও করেন ট্রাম্প। তিনি মুহাম্মাদ বিন সালমানকে নিজের ভালো বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতির ভালো সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি বাহিনী কয়েক দিনের মধ্যে ইয়েমেনের হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর তাদের প্রভাব বেড়েছে।

বাব আল-মান্দাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে। এ অবস্থায় বাব আল-মান্দাবেও চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার পর গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাসকাটে আমেরিকান কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংগঠনটির প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে হুথি প্রতিনিধিরা আমেরিকান কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন, লোহিত সাগরে আমেরিকান জাহাজে হামলার কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই। তাঁরা জানান, জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তবে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের অতীত হামলা, ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং আমেরিকার প্রতি বিরোধী অবস্থানের কারণে এই আশ্বাসের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত যুদ্ধের কারণে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক সম্পদ কমে আসার খবর এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা বৃদ্ধির মধ্যে ইয়েমেনে নতুন আরেকটি সামরিক অভিযানে জড়ানোর ঝুঁকি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ধারণা করেছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র খোলার সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সামনে হুথিদের দেওয়া আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা ছাড়া সহজ কোনো বিকল্প নাও থাকতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক বিশ্লেষক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কোনো সুস্পষ্ট বৃহত্তর কৌশল দেখতে পাচ্ছেন না। তাঁর মতে, ইরান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ যেমন স্পষ্ট নয়, তেমনি ইয়েমেনের ক্ষেত্রেও সহজ কোনো সমাধান দৃশ্যমান নয়।

সূত্র : আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ