spot_img
spot_img

সৌদি আরবকে ইসরাইলের সহায়তার প্রস্তাব রাজনৈতিক কৌশলগত ফাঁদ: তামের আজরামি

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের পক্ষে ইসরাইলের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রস্তাবকে সহায়তা নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত ফাঁদ হিসেবে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন লেখক তামের আজরামি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তামের আজরামি লিখেছেন, যদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের পক্ষে ইসরাইলের সম্পৃক্ততার প্রস্তাব দিয়ে থাকেন, তাহলে সেটিকে সৌদি আরবকে সহায়তা করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এর মাধ্যমে উপসাগরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার কেন্দ্রে ইসরাইলকে ঢোকানো এবং রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের নতুন সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে।

তিনি বলেন, ইয়েমেন যুদ্ধে ইসরাইল সৌদি আরবকে সহায়তার নামে যুক্ত হলে সৌদি আরবের বিরোধীরা এটিকে আমেরিকা ও ইসরাইলের নেতৃত্বাধীন একটি জোটের অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে তুলে ধরার সুযোগ পাবে। এতে সৌদি আরবের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে, হুথিদের প্রচারণা শক্তিশালী হতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

আজরামি আরও বলেন, ইয়েমেনের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকি থেকে ইসরাইল নিজেই পুরোপুরি সুরক্ষিত হতে পারেনি। হোদেইদাহ বন্দরে হামলার পরও হামলা বন্ধ হয়নি, লোহিত সাগরের পরিস্থিতিও অস্থিতিশীল রয়েছে। এমন অবস্থায় ইসরাইল কীভাবে সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দিতে পারবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তার মতে, সৌদি আরবের ইয়েমেন সমস্যা সমাধানে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান প্রয়োজন নেই। বরং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে ইয়েমেনের বিষয়টি সমাধান করা প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সৌদি আরবের নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আজরামি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা শুধু সামরিক সমস্যা নয়, এটি সৌদি আরবের ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। প্রতিটি অতিরিক্ত যুদ্ধের দিন সৌদি আরবকে একটি স্থিতিশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বড় ধরনের সামরিক ক্ষতি না করলেও বিনিয়োগ ও জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইয়েমেন সংকটের সমাধান ইসরাইলকে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়ে আসা নয়। বরং ইয়েমেন যুদ্ধের অবসান, কার্যকর আলোচনা, অনাক্রমণ চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচল সুরক্ষার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ওমান ও ইরান মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত দেন তিনি। তার মতে, বৃহত্তর আঞ্চলিক সমঝোতার মাধ্যমে ইয়েমেনকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা সম্ভব।

তামের আজরামির মতে, সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি হবে সৌদি-ইয়েমেন যুদ্ধকে সৌদি আরব ও ইসরাইলের যৌথভাবে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত করা। এতে সৌদি আরব সামরিক সহায়তার বদলে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান হারানোর পাশাপাশি সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু ইয়েমেনে শান্তি চান না। বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে সৌদি আরবকে অস্ত্র ও নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল রাখা এবং ইয়েমেনকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ধরে রাখা তার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের উচিত ইয়েমেন যুদ্ধের অবসানে রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইসরাইলের যুদ্ধের আরেকটি ময়দানে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করা বলে মত দেন আজরামি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ