জাতিসংঘের নবনিযুক্ত আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ও আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) প্রধান রাবাব ফাতিমা কাবুলে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায়, ১৬ অক্টোবর থেকে ফাতিমা তাঁর নতুন দায়িত্ব শুরু করেন। আফগানিস্তান তালেবান শাসনের অধীনে রাজনৈতিক, মানবিক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে থাকার সময় তিনি মিশনটির নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারি দায়িত্ব পালনে রাবাব ফাতিমার ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অধিকার আদায়ের পক্ষে প্রচারণা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ছোট দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর জন্য জাতিসংঘের উপমহাসচিব ও উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশি এই কূটনীতিক ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের নেতৃত্ব দেন। ২০২২ সালে তিনি জাতিসংঘের শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী হন। তিনি জাপানেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ১৫ জুলাই রাবাব ফাতিমার নিয়োগ ঘোষণা করেন। তিনি কিরগিজস্তানের রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একইসঙ্গে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় ইউএনএএমএর কার্যক্রম তদারক করা উপ-বিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যাননের দায়িত্বেরও স্বীকৃতি দেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
আফগানিস্তানের সঙ্গে জাতিসংঘের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় ইউএনএএমএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিশনটি সংলাপে সহায়তা, মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয় এবং দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ করে।
আফগান নারী ও মেয়েদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ, মানবিক প্রয়োজন এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অব্যাহত উদ্বেগের মধ্যেই ইউএনএএমএর এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র : খামা প্রেস নিউজ এজেন্সি











