ইরান যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই আবারও সমুদ্রের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশটির এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
এ মাসে এটি উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং চলতি বছরে সপ্তম। বিশ্লেষকদের মতে, আত্মরক্ষার সক্ষমতা প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ সৃষ্টি করতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে পিয়ংইয়ং।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিম কি-জুং বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া দেখাতে চাইছে যে তারা ইরানের মতো নয়, তাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপের আগে শক্তি প্রদর্শন এবং আগাম চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে এটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর সিনপো এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরে পড়ে।
জাপান সরকার জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের কাছে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে এ উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন এবং উসকানিমূলক পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাত সপ্তাহ ধরে চলা আমেরিকা–ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরদার করতে পারে।
এর আগে, মার্চের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঘোষণা দেন, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান অপরিবর্তনীয় এবং আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
সূত্র: রয়টার্স











