spot_img

প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় গণমিছিল করতে পারেনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

মাওলানা মামুনুল হকসহ কারাবন্দী আলেমদের মুক্তি ও চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯ মে) জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ শেষে গণমিছিল করার কথা থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী বলেন, মাওলানা মামুনুল হক সহ আলেমদের বন্দী রেখে সরকার জাতীর উপর বিপদ ডেকে আনছে। আলেমদের এভাবে বন্দী করে রাখা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর।

মাওলানা আরো নূরপুরী বলেন, দলীয় সরকারের আমলে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জিনিস পত্রের দাম বেড়েই চলছে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না এভাবে স্মাট বাংলাদেশ গড়া যাবে না। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার নামে মানুষের সাথে প্রতারণ করা হচ্ছে। তিনি ভারতের সাথে দেশের স্বার্থ বিরোধী ট্রানজিট চুক্তি বাতিল করার জন্য জোর দাবী জানান তিনি আজ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের মুক্তি সহ ৪ দফা দাবীতে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব
কথা বলেন।

সমাবেশে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ তার বক্তৃতায় বলেন, অনেক খুনের মামলার আসামীরাও অল্প সময়ে মুক্তি পেয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে দ্বীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রাখা হয়েছে। যা অমানবিক। মাওলানা মামুনুল হক তার স্ত্রী নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে ছিলেন এবং তার স্ত্রী ঝর্ণা জনসম্মুখে দাবী করেছেন মামুনুল হক তার স্বামী, যা দেশবাসী সবাই শুনেছে। কিন্তু প্রশাসনের অতি উৎসাহী কিছু কর্মকর্তা মামুনুল হকের চরিত্র হননের জন্য তার স্ত্রী ঝর্ণাকে দিয়ে জোর পূর্বকভাবে একটি ধর্ষণ মামলার নাটক সাজিয়েছে। যা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। আলেমদের চরিত্র হননের ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিবে না। সুতরাং মাওলানা মামুনুল হকসহ আলেমদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সভা সমাবেশ ও মিছিল মিটিং করা আমাদের নাগরিক অধিকার কিন্তু সরকার আমাদের নাগরিক অধিকারে হন্তক্ষেপ করছে। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণমিছিলের জন্য ডিএমপি বরাবর আবেদন করলেও শেষ মুহূর্তে এসে আমাদেরকে গণমিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি যা খুবই দুঃখজনক। এধরণের আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা ও মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সালের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় অফিস ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, সাংগঠনিক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, আর্ন্তজাতিক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা সামিউর রহমান মুসা, সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইন, সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য মাওলানা রুহুল আমীন খান, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মাওলানা আব্দুল মুমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজী প্রমুখ। সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেছেন, ভারতের সাথে ট্রানজিট চুক্তি দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ত বিরোধী, অবিলম্বে ট্রানজিট চুক্তি বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার বার বার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। এতে মানুষের জনজীবন আরো বিপর্যময় হয়ে উঠছে। তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ