spot_img
spot_img

ইরানে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ইরান ওয়াশিংটনের কাছে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর দেশটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর এখন “খুব ভালো সম্ভাবনা” রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের প্রস্তাব পাওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, “আগামীকাল ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হামলা আমরা চালাব না। তবে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যে কোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার বড় সামরিক আক্রমণ চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে তাদের আরও নির্দেশ দিয়েছি।”

এর আগে এমন কোনো হামলার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। রয়টার্সও নিশ্চিত হতে পারেনি, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেন, সেই যুদ্ধ নতুন করে শুরুর মতো কোনো হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল কি না।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে, এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। এর আগেও তিনি যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে একটি চুক্তি কাছাকাছি বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তেহরান চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন। কারণ, “একটি চুক্তি হবে, যা আমেরিকার জন্য যেমন খুব গ্রহণযোগ্য হবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের সব দেশের জন্যও গ্রহণযোগ্য হবে।” তবে আলোচনাধীন চুক্তির বিস্তারিত তিনি জানাননি।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, এমন একটি চুক্তিতে তেহরানের সঙ্গে পৌঁছাতে পারলে আমেরিকা সন্তুষ্ট হবে।

একটি ভিন্ন ঘোষণার জন্য জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “মনে হচ্ছে, তারা কোনো একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারে, এর খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। আমরা যদি তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ না করেই এটা করতে পারি, তাহলে আমি খুব খুশি হব।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করার পর ট্রাম্প হামলা বাতিলের বিষয়ে পোস্ট দেন। বাঘাই জানিয়েছিলেন, তেহরানের অবস্থান “পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকান পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এক পাকিস্তানি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইসলামাবাদ সর্বশেষ প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। গত মাসে একমাত্র দফা শান্তি আলোচনা আয়োজনের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করে আসছে পাকিস্তান। তবে ওই সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, অগ্রগতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানি সূত্রটি বলেছে, দুই পক্ষই “নিজেদের শর্ত বারবার বদলাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।”

ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইরান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিগুলোতে অনমনীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। ইরান আমেরিকা ও তার মিত্রদের সতর্ক করে বলেছে, ইরানে হামলার ক্ষেত্রে তারা যেন আর কোনো “কৌশলগত ভুল বা ভুল হিসাব” না করে। একই সঙ্গে তেহরান দাবি করেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত ও শক্তিশালী।”

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া জানিয়েছে, নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “ট্রিগার টানতে প্রস্তুত” রয়েছে।

খাতাম আল-আম্বিয়ার কমান্ডার আলী আবদুল্লাহিকে উদ্ধৃত করে তাসনিম জানায়, “নতুন কোনো আগ্রাসন ও হামলার জবাব দ্রুত, সিদ্ধান্তমূলক, শক্তিশালী ও ব্যাপকভাবে দেওয়া হবে।”

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ইরানের শান্তি প্রস্তাবটি অনেক দিক থেকেই তেহরানের আগের প্রস্তাবের সঙ্গে মিল আছে বলে মনে হয়েছে। ওই প্রস্তাব ট্রাম্প গত সপ্তাহে “আবর্জনা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হবে প্রথমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ, যা ইরান কার্যত অবরোধ করে রেখেছে।

ওয়াশিংটনের অবস্থানে আপাত নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রটি সোমবার বলেছে, বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দ অর্থের এক-চতুর্থাংশ ছাড় দিতে আমেরিকা রাজি হয়েছে। এসব অর্থের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি ডলার। তবে ইরান সব সম্পদ ছাড় চায়।

ইরানি সূত্রটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানকে কিছু শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন আরও নমনীয়তা দেখিয়েছে।

তবে আলোচনায় কোনো বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে আমেরিকা নিশ্চিত করেনি।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি আলাদাভাবে অজ্ঞাত এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিতে আমেরিকা রাজি হয়েছে।

তাসনিমের প্রতিবেদনের বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিবেদনটি মিথ্যা।

আমেরিকা ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষে এখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে ইরাক থেকে সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে ইরান ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে চালানো হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে রোববারের একটি ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি আরব বলেছে, ইরাকের আকাশসীমা থেকে দেশটিতে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।

সূত্র: আরিয়ানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ