রাজধানীর কদমতলীর একটি বাড়িতে এক পরিবারের তিনজনকে হত্যা দায়ে ওই পরিবারেরই এক নারী সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম মেহজাবিন মুন (২৬)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে মৃতদেহগুলো একটি কক্ষের মধ্যে হাত বাঁধা অবস্থায় ছিলো।
নিহতরা হলেন- বাবা মাসুদ রানা (৫০), মা মৌসুমী ইসলাম (৪০) ও ছোট বোন জান্নাতুল (২০)। এছাড়া ওই বাসা থেকে মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম অরণ্য ও তার চার বছরের মেয়ে মারজান তাবাসসুম তৃপ্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুন) সকালে ওই নারী তার বাবা-মা ও বোনকে হত্যার পর নিজেই পুলিশকে খবর দেন বলে জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারী জোনের ডিসি শাহ ইফতেখার আহমেদ।
তিনি বলেন, যারা ভিকটিম হয়েছেন তারা হলেন মেহজাবিন মুনের বাবা, মা ও বোন। আর চিকিৎসাধীন আছেন তার স্বামী ও মেয়ে। মেহজাবিনই আমাদের ফোন করে জানান যে তিনি খুন করেছেন এবং আমরা যদি আসতে দেরি করি তাহলে তিনি আরও দুজনকে খুন করবেন।
তিনি আরও বলেন, সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান যে দুই তলার ওপর তিন কক্ষের বাসা এবং এর একটি কক্ষে বাবা মা ও বোনের মৃতদেহ বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে আছে।
পুলিশ জানায়, খাবারের সাথে চেতনানাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, মা-বাবা ও বোনকে শুক্রবার রাতে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরিবারের দাদী ছাড়া সকলকে অচেতন করে বড় মেয়ে মেহজাবিন। এরপর একে একে বাবা, মা ও বোনের হাত-পা বেঁধে ফেলে হত্যার মিশন সফল করে বলে পুলিশের কাছে জানায় সে। আটকের পর হত্যায় জড়িত থাকার কথা অপকটে স্বীকার করেছে সে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে মেহজাবিন বলেন, তার মা মৌসুমী ইসলাম দুই বোনকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। এ বিষয়ে বাধা দিলেও তিনি তা শুনেনি। অন্যদিকে বিষয়টি বাবা জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। বাবাও সমর্থন দিতেন তার মাকে। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানায় সে।
মেহজাবিন আরও বলেন, তার বাবা মাসুদ ১২ বছর ধরে বিদেশে ছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। কিন্তু বাবা বিদেশে থাকাকালীন ওই সময় তার মা মৌসুমী তাকে ও তার ছোট বোনকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতেন। এরই মধ্যে মেহজাবিনের বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু তার মায়ের কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। ছোট বোনকে দিয়েও চালাচ্ছিলেন সেই অনৈতিক কাজ। বাধ্য হয়ে মেহজাবিন তার ছোট বোনকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সম্প্রতি তার মা ছোট বোনকে নিয়ে আসেন এবং আবারও একই কাজ করতে বাধ্য করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মেহজাবিন তার মাকে নিষেধ করেন এবং সেটি বন্ধেরও অনুরোধ করেন। কিন্তু মা শুনছিলেন না।
কদমতলী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকির হোসেন বলেন, মেহজাবিন ও তার বোনকে দিয়ে তার মা খারাপ কাজ করাতো। এই ক্ষোভ থেকে সে মা, বাবা ও বোনকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে। এছাড়া আর কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।












