spot_img
spot_img

গণহত্যায় গাজ্জার ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল, তবুও ক্লাসে ফিরল ৭ লাখ শিক্ষার্থী

তিন বছরের ইসরাইলি গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজ্জার প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী পড়াশোনায় ফিরেছে। বিদ্যালয়ের অভাবে তাদের অনেককে তাঁবু, অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র কিংবা দূরশিক্ষার মাধ্যমে পাঠ নিতে হচ্ছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম সাফা নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গাজ্জার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধের সময় প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতে কর্মরত প্রায় ৭৭০ জন শহীদ হয়েছেন। অধিকাংশ বিদ্যালয় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশিষ্ট কিছু বিদ্যালয় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ বছর গাজ্জার শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষাকার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের মহাপরিচালক আহমদ আয়েশ আন-নাজ্জার বলেন, শিশুদের শিক্ষার অধিকার বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণের জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। এ কারণে ব্যবহারের উপযোগী বিদ্যালয়, অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, তাঁবু ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত বছর প্রায় ২৭০টি বিদ্যালয় ও শিক্ষাকেন্দ্র ব্যবহার করা হয়েছিল। এ বছর তা বাড়িয়ে প্রায় ৩২০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা আনরোয়া সশরীরে পাঠদান ও দূরশিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র আদনান আবু হাসনা জানিয়েছেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ৮৬টি অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র চালু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পর্যায়ক্রমে আরও কেন্দ্র চালু করা হবে।

আনরোয়ার পরিকল্পনায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী দূরশিক্ষার আওতায় থাকবে। সশরীরে পাঠদানের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৭২ হাজার ৫১ জন, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রায় এক লাখে উন্নীত করা হতে পারে। সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে পাঠদান হবে এবং প্রতিদিন চারটি করে ক্লাস নেওয়া হবে।

তবে তাঁবুতে পাঠদানকে স্থায়ী সমাধান মনে করছে না গাজ্জার শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আন-নাজ্জার বলেন, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম ও শীতের ঠান্ডায় তাঁবু উপযুক্ত শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই জরাজীর্ণ তাঁবু বদলানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন।

যুদ্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘাটতি কাটাতে আরবি, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া দক্ষতা পুনরুদ্ধারে ত্বরান্বিত শিক্ষা কর্মসূচিও চালু করা হচ্ছে।

আনরোয়া জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতি, নিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান মানসিক ও সামাজিক চাহিদাও শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার পথে বড় বাধা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়ও যুদ্ধে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় তার আসবাবপত্র, সরঞ্জাম, প্রশাসনিক কার্যালয় ও পরিবহনব্যবস্থার একটি বড় অংশ হারিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শিক্ষাগত ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করেছে গাজ্জার শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সূত্র : সাফা নিউজ এজেন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ