ইসলামের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় হামলা চালানো, সেখানকার পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং মুসলিমদের আতঙ্কিত করাকে মহাপাপ ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির দুই ইমাম। একই সঙ্গে পবিত্র নগরী দুটির মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবায় এসব কথা বলেন দুই ইমাম।
মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শাইখ ড. বান্দার বালিলাহ বলেন, পবিত্র স্থান ও নিরাপদ নগরীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের সম্পত্তির ওপর আঘাত হানা ধর্ম ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
তিনি বলেন, মুসলিমদের আতঙ্কিত করা এবং তাদের হৃদয়ের সবচেয়ে প্রিয় পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন করা অত্যন্ত গুরুতর পাপ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুসলিমদের রক্তের পবিত্রতাও লঙ্ঘিত হচ্ছে। অথচ আল্লাহর কাছে মুসলিমদের রক্তের মর্যাদা পবিত্র কাবা শরিফের চেয়েও বেশি।
শাইখ বান্দার বালিলাহ আরও বলেন, যারা আল্লাহর ঘর, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদ এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার দুঃসাহস দেখায়, তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব গোষ্ঠী নিজেদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে ধর্মীয় স্লোগানকে ব্যবহার করছে।
এ সময় তিনি হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলে তাদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান।
অন্যদিকে মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শাইখ ড. আবদুল মুহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনা মহান আল্লাহর বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত দুটি পবিত্র ও নিরাপদ নগরী। মক্কায় রয়েছে মুসলিমদের কিবলা পবিত্র কাবা শরিফ এবং আরাফাত, সাফা-মারওয়াসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো। আর মদিনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ভূমি। সেখানেই রয়েছে তাঁর পবিত্র মসজিদ।
তিনি বলেন, পবিত্র এই দুই নগরী এবং সেখানকার মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির ওপর হামলা চালানো আল্লাহর কাছে গুরুতর অপরাধ।
মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নিরপরাধ মানুষকে আতঙ্কিত করার নিন্দা জানিয়ে তিনি আবরাহার হস্তীবাহিনীর পরিণতি স্মরণ করিয়ে দেন। পাশাপাশি মদিনাবাসীকে অন্যায়ভাবে ভয় দেখানোর পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস উল্লেখ করেন।
তিনি পবিত্র নগরী দুটির মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের সম্পদ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি জোটের অভিযোগ, ড্রোনটি হুথি বাহিনী পাঠিয়েছিল এবং সেটি মক্কাকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে হুথি বাহিনী মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আল-মদিনা, ওকাজ ও রয়টার্স।











