spot_img
spot_img

নিজস্ব অর্থায়নে আফগানিস্তানে স্কুল ভবন নির্মাণ, উপকৃত ৩০০ শিক্ষার্থী

দক্ষিণ গজনি প্রদেশের কারাবাগ জেলার তাকচিন এলাকার বাসিন্দারা ৬০ লাখ আফগানিরও বেশি নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে একটি স্কুল ভবন নির্মাণ করেছেন। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও এলাকার বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে নতুন ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ ঈসা হায়দারি জানান, ৪৫০ বর্গমিটার জমির ওপর স্কুল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো স্কুল চত্বরের আয়তন ৬,০০০ বর্গমিটার।

তিনি বলেন, ভবনটিতে আটটি শ্রেণিকক্ষ, একটি প্রশাসনিক কক্ষ, একটি গ্রন্থাগার, একটি সম্মেলনকক্ষ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, একটি গভীর নলকূপ, বিশুদ্ধ পানির সংরক্ষণাগার ও শৌচাগার রয়েছে। এছাড়া স্কুল চত্বরে একটি ফুটবল মাঠও নির্মাণ করা হয়েছে।

তাকচিন স্কুলের শিক্ষক নেমাতুল্লাহ তাওয়াকুলি বলেন, ১৯৯৬ সালে জনগণের সহযোগিতায় স্কুলটির পুরোনো ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে বছরের পর বছর ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের অনুপযোগী পরিবেশে পড়াশোনা করতে হতো।

তিনি বলেন, নতুন ভবন শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করবে এবং তাদের শিক্ষার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সহায়তা করবে।

স্কুলটির দুই শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আমীন ও মাহনাজ জানায়, পুরোনো স্কুল ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। বাতাস ও বৃষ্টির সময় তাদের পড়াশোনা করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। নতুন ভবন নির্মাণকে স্বাগত জানালেও তাদের এখনো পাঠ্যবই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানায় তারা।

ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গজনি শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মাওলানা মীর নাসির আহমাদ হুসাইনি শিক্ষাক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে গজনি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে কয়েক ডজন স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছর প্রায় ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষক পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। একইসঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পেশাগত বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ নাজারি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি দুর্বল করার এবং বিভাজন সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে সহযোগিতা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

কারাবাগ কমিউনিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান উস্তাদ আলাভি সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষা ও জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজের অগ্রগতির জন্য শিক্ষার প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

তাকচিন এলাকার বাসিন্দারা জানান, এর আগেও তারা নিজেদের অর্থ ও সামর্থ্য ব্যবহার করে জনকল্যাণমূলক বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে এলাকায় একটি বড় সেতু, ৩০ মিটার প্রশস্ত একটি সড়ক, একটি জামে মসজিদ ও একটি মাদরাসা নির্মাণের কথা জানান তারা।

ভবিষ্যতে এলাকায় একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তাকচিন এলাকার বাসিন্দারা।

সূত্র: পাজভোক আফগান নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ