তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন ‘গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান কানাডা প্রবাসী মমিনুল হক মিলন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। যেহেতু এটি বেগম জিয়ার পারিবারিক ইস্যু, তাই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অবস্থান জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বেশি এখন কিছু বলা সম্ভব নয়।”
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারকে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার মাধ্যমে ধ্বংস করা। জিয়া পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে চিরতরে দুর্বল করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামানের রায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে ২০০ বছরের পুরোনো পরিত্যক্ত কারাগারে আটক রাখা হয়। পরে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কারাবাসের সময় বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ৭৫ বছরের বেশি ছিল। অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে তাকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এরপর তার শরীরের অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতি ঘটে।
তিনি ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হেঁটে সুস্থ অবস্থায় কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু পরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অযত্ন-অবহেলার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি লিভার সিরোসিস, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ডিপ্রেশনসহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা বারবার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতির আবেদন করেন। তবে সরকার এসব আবেদন অনুমোদন করেনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে পরিত্যক্ত কারাগারে আটক রাখা হয় এবং যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।











