ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে পপি চাষ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মুহাম্মাদ নাঈম।
দেশে পপি চাষ নিষিদ্ধ করে আমীরুল মুমিনীন মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিজাহুল্লাহর জারি করা ৩১ নম্বর ফরমানের উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মুহাম্মাদ নাঈম ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের পরিচালক, উপপরিচালক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আলেমরা অংশ নেন।
বৈঠকে ড. মুহাম্মাদ নাঈম, দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা অধিদপ্তরের পরিচালক এবং কয়েকজন আলেম ফরমানটির উদ্দেশ্য, আইনি ও সামাজিক দিক, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর গ্রহণযোগ্যতা এবং মাদকবিরোধী লড়াইয়ে ইমারাতে ইসলামিয়ার নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তারা মাদকদ্রব্যের চাষ, উৎপাদন, পাচার ও ব্যবহার প্রতিরোধে ফরমানটির গুরুত্ব, প্রভাব ও অর্জনও তুলে ধরেন।
ড. মুহাম্মাদ নাঈম বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ। তাই মাদক প্রতিরোধ করাও একটি সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের প্রত্যেক মানুষেরই এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রথমে নিজেদের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এরপর পরিবার, বন্ধু, আশপাশের মানুষ এবং পুরো সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত করতে জনসচেতনতা তৈরিতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মাদকের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এটি সমাজের তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করে উল্লেখ করে ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তরুণরাই একটি সমাজের ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি। তারা যখন মাদকের শিকার হয়, তখন প্রকৃতপক্ষে সেই সমাজের ভবিষ্যৎই ধ্বংস হয়ে যায়। উন্নতি ও সমৃদ্ধির প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমাজ পিছিয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, এটাই মূলত শত্রুদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা। তারা সমাজের তরুণদের অক্ষম করে দিতে চায়, যাতে সমাজ পিছিয়ে থাকে, অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও সেবা দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মাদকের বিপদ সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।
ড. মুহাম্মাদ নাঈম বলেন, পপি চাষ নিষিদ্ধের ফরমান কার্যকর ও পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা শুধু সমাজের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি দেশের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন শক্তিশালী করতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ফরমানটি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়, যৌথ প্রচেষ্টা এবং এর বিধানগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানো, মাদক প্রতিরোধ এবং আমীরুল মুমিনীন মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিজাহুল্লাহর ৩১ নম্বর ফরমানের বিধানগুলো বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য বৈঠকে অংশ নেওয়া সবার প্রতি আহ্বান জানান ড. মুহাম্মাদ নাঈম।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ










