গাজ্জা উপত্যকার ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি এখন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সেখানে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনওস্যাট)-এর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এফএও জানায়, গত ২৪ জুন পর্যন্ত গাজ্জায় মাত্র ৪৪৮ হেক্টর কৃষিজমি অক্ষত ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে এ ধরনের জমির পরিমাণ ছিল ৬০১ হেক্টর। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে অক্ষত ও ব্যবহারযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ কমেছে ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ গাজ্জার রাফাহতে কৃষিজমিতে প্রবেশ করতে না পারার হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে কৃষিজমির সবচেয়ে বেশি ভৌত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর গাজ্জা ও গাজ্জা গভর্নরেটে।
এফএও আরও জানিয়েছে, গাজ্জার মোট গ্রিনহাউস এলাকার মাত্র ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ এখনো অক্ষত ও ব্যবহারযোগ্য রয়েছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কৃষিজমিতে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধের পাশাপাশি বীজ, সার, জ্বালানি, সেচসামগ্রী ও পশুখাদ্যের তীব্র সংকট গাজ্জার কৃষিখাতের পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত করছে।
কৃষকদের নিজ জমিতে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় উৎপাদন উপকরণ সরবরাহে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফএও।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে আমেরিকা ও ইউরোপের সমর্থনে দখলদার অবৈধরাষ্ট্র ইসরাইল গাজ্জা উপত্যকায় গণহত্যা চালিয়ে আসছে। এ আগ্রাসনে হত্যা, অনাহার, ধ্বংসযজ্ঞ, বাস্তুচ্যুতি ও আটকের পাশাপাশি গাজ্জার কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের বারবার আহ্বান এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও গাজ্জায় দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর










