যুদ্ধবিরতি চললেও গাজ্জায় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দুই শিশু এবং আল-জাজিরার এক ক্যামেরাম্যানসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার (২০ জুন) স্থানীয় সময় সেন্ট্রাল গাজ্জার বুরেজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে তাদের ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহ নিহত হন।
আল-জাজিরা এই হত্যাকাণ্ড একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
মাত্র দুই মাস আগে আহমেদের ভাই ও আল-জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহও ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজ্জায় আল-জাজিরার ১২ জন কর্মী নিহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমটি এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ এবং ইসরাইলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, আহমেদ উইশাহ হামাসের একজন ‘স্নাইপার অপারেটর’ ছিলেন এবং দুই হামাস যোদ্ধার সঙ্গে একটি নিখুঁত বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল-জাজিরার ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি হামাসের সামরিক শাখায় যুক্ত ছিলেন এবং আইডিএফ সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন বলে ইসরাইল দাবি করে। তবে আহমেদ উইশাহ যে হামাসের সদস্য ছিলেন, তার সপক্ষে ইসরাইলি বাহিনী কোনো প্রমাণ দেয়নি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বারবার বলে আসছে যে তারা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে তারা বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করেছে, যারা তাদের মতে গণমাধ্যমকর্মীর ছদ্মবেশে ফিলিস্তিনি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে কাজ করছিলেন।
আহমেদের ভাই মোহাম্মদ উইশাহের মৃত্যুর সময় গণমাধ্যম অধিকার বিষয়ক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছিল, ইসরাইলি বাহিনী ২২০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে হত্যা করেছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ জন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবারে ইসরাইলি হামলায় মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। গাজ্জা সিটির সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে রাতভর বিমান হামলায় আল-সাফাদি পরিবারের স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের দুই মেয়ে নিহত হন।
হামাস পরিচালিত উদ্ধারকারী সংস্থা সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় আরো ১২ জন আহত হয়েছেন।
গাজ্জা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল সাফাদি পরিবারের চার সদস্যের লাশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ৪ বছর বয়সি জিনা এবং ১৪ বছর বয়সি লানা নামের দুই শিশু রয়েছে।
তাদের আত্মীয় নায়েল আল-সাফাদি বলেন, ‘রাত ২টার দিকে আমার চাচাতো ভাইয়েরা যখন ঘুমাচ্ছিল, তখন একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে তাদের ওপর পড়ে। হামাসের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কেবলই নিষ্পাপ শিশু।’
আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, গাজ্জা সিটির উত্তরে একটি পৃথক ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরো একজন নিহত হয়েছেন।
পরে শনিবার সিভিল ডিফেন্স জানায়, পৃথক ইসরাইলি হামলায় আরো ছয়জন নিহত হন, যার মধ্যে বুরেজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আল-জাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহসহ তিনজন নিহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ১ হাজার ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। একই সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের পক্ষে পাঁচজন সেনা নিহতের কথা জানিয়েছে।
তবে গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং গাজায় সীমিত প্রবেশের কারণে কোনো সংবাদ সংস্থা স্বাধীনভাবে এই হতাহতের সংখ্যা যাচাই বা মুক্তভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না।
সূত্র: এবিসি নিউজ











