বৃহস্পতিবার | ১৯ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

মুজিব হলো বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক: শামসুজ্জামান দুদু

শেখ মুজিবকে বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, শেখ মুজিব বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরশাসক। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাড়ে তিন বছরে রক্ষীবাহিনী প্রতিষ্ঠা করে প্রায় ৪০ হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে নির্দয় নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সে সময়ই গুম-খুনের রাজনীতি ছিল। শেখ মুজিব ইতিহাসে জঘন্যতম একটি অধ্যায় রচিত করেছে, তার ধরাবাহিক রূপ হচ্ছে তার কন্যা।

আজ সোমবার (২১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ‘নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দুদু বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে, যারা ফ্যাসিস্ট, যারা স্বৈরতন্ত্র দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চর্চা করেছে, তাদের বিচার প্রয়োজন। তাদের বিচার করতেই হবে। এটা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। হাসিনা গণহত্যাকারী, এ ব্যাপারে বাংলাদেশে কোনো দ্বিমত নাই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে দ্বিমত নাই। জাতিসংঘ দ্বিমত করে নাই।’

তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ তাকে (হাসিনা) কোলের মধ্যে করে রেখেছে। তারা তো মুখোশধারী। তারা তাকে স্বৈরতান্ত্রিক শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ যদি ২০১৪ সালের পরেই বলতো, এ নির্বাচন সঠিক না, তাহলে মনে হয় শেখ হাসিনা স্বৈরশাসক হতে পারতো না।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘হাসিনা শুধু ফ্যাসিস্ট না, হত্যাকারী না, লুণ্ঠনকারী না, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বাংলাদেশকে এক ধরনের উপঢৌকন হিসেবে ভারতের হাতে শেখ হাসিনা তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সাংবাদিকতা, রাজনীতি সবকিছু ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে এবং এ কথা সে স্বীকার করেছে। বলেছে, এমন কিছু আমি ভারতের দিয়েছি, ভারত তা কোনোদিন ভুলতে পারবে না। কী দিয়েছিল বলেনি; তার মানে বাংলাদেশ দিয়ে দিয়েছে। যদি একটু সময় পেত আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টে দিয়ে দিত।’

তিনি বলেন, ‘সে জন্য শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে ক্ষমা করা যাবে না। তার বিচার অবশ্যই করতে হবে।’

দুদু বলেন, ‘গোপালগঞ্জে যে ঘটনা ঘটালো, সে টাকা এলো কোথা থেকে। হাসিনার কাছ থেকে। বাংলাদেশে ৪-৫টি বাজেটের টাকা সে নিয়ে গেছে। এ টাকা আমাদের উদ্ধার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সম্পর্কে পরিষ্কার করে কথা বলি, বিএনপি তাকে সমর্থন করেছে। এখনো সে সমর্থন অব্যাহত আছে। আমরা তার কাছে একটা ভালো নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাশা করি। নির্বাচন ছাড়া এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় কোনো পথ নাই। তাকে আমরা সমালোচনা করি, তিনি যেন সঠিক পথে থাকেন। তার ভাবমূর্তি দেশব্যাপী আছে, সারা বিশ্বব্যাপী আছে। সেটিকে ব্যবহার করে দেশ সমৃদ্ধ হবে এটা বিএনপি মনে করে। কিন্তু অনন্তকাল ধরে আমরা নির্বাচন ফেলে রাখলে ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু বসে থাকবে না। এই ষড়যন্ত্র কতটা নির্মম আমরাতো গোপালগঞ্জেই এটা দেখলাম। এমনি এমনি এ ঘটনা হয়েছে, এটা ভাবার কোনো কারণ নাই। এটা পরিকল্পিতভাবেই হয়েছে। ঢাকা শহরে ঘটানো হবে না, এটা বলা যায় না। সে জন্য আমাদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ