spot_img
spot_img

যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে কাতার-পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করবে তুরস্ক

যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সমন্বয় জোরদারে দোহায় কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই করবে তুরস্ক।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রেসিডেন্সি সোমবার জানিয়েছে, যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য বহুপক্ষীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দোহায় কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এ সমঝোতা স্মারক সই করবে আঙ্কারা।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রেসিডেন্সির মতে, সমঝোতা স্মারকটি বহুপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন একটি পর্যায়ের সূচনা করবে। এর আওতায় শুধু সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির মধ্যে সহযোগিতা সীমাবদ্ধ না রেখে যৌথ উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খলের সমন্বয় এবং পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হবে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বকে কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে এসব উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রধান হালুক গোরগুনও ব্যাপক উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্প রপ্তানিকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের মোট রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৫৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি, অর্থাৎ মোট রপ্তানির ৫৫ শতাংশেরও বেশি, হয়েছে গত চার বছরে।

২০২৫ সালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেড়ে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে গত ১২ মাসের হিসাবে রপ্তানির পরিমাণ প্রথমবারের মতো ১১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি ১২২ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে দেশটি বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। মোট বিক্রির ৫৬ শতাংশই ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর কাছে হয়েছে।

কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যৌথ উৎপাদন

কাতারের সঙ্গে আঙ্কারার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় বায়রাকতার টিবি২ ড্রোন, সাঁজোয়া যান ও দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান রয়েছে। এর পাশাপাশি বারকিউ নামে একটি যৌথ উদ্যোগও রয়েছে। তুরস্কের আসেলসান ও কাতারের বারজান হোল্ডিংসের যৌথ উদ্যোগ বারকিউ স্থানীয়ভাবে সার্প অস্ত্র ব্যবস্থা উৎপাদন করছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে পিএন মিলগেম প্রকল্পের আওতায় আসফাত ইস্তাম্বুলে নির্মিত বাবর শ্রেণির দুটি করভেট সরবরাহ করেছে। একইসঙ্গে বাকি দুটি করভেট নির্মাণ সম্পন্ন করতে করাচি শিপইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কাপলান এমটি ট্যাংক প্রকল্পে এফএনএসএস ও পিটি পিন্দাদ প্রযুক্তি হস্তান্তরের আওতায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

দোহায় সই হতে যাওয়া এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এসব দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ভিত্তিকে চতুর্পক্ষীয় উদ্যোগে সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি টেকসই উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলার তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রেসিডেন্সির অগ্রাধিকারও এগিয়ে যাবে।

সূত্র : ইয়েনি শাফাক

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ