রবিবার | ২২ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

বিশ্ব বাজারে আফগান জফরানের দাপট

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের কৃষিপণ্যের বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান অবস্থানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাফরান। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে বিশ্ব বাজারে ৫৬ টন জাফরান রপ্তানি করেছে আফগানিস্তান, যার থেকে আয় হয়েছে ৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে আফগান জফরান বিশ্ববাজারে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। উচ্চমান, বিশুদ্ধতা এবং অনন্য স্বাদের কারণে এই মূল্যবান ফসল এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে প্রিয়। হেরাতসহ আফগানিস্তানের উৎপাদনকেন্দ্র থেকে রপ্তানি হওয়া জফরান শুধু দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে না, বরং এটি নারীদের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় কৃষি খাতের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আফগান জাফরান দেশটির কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতার দিক থেকে এক নতুন উচ্চতা সূচিত করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আয়ে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের বৃদ্ধি হয়েছে, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ। উৎপাদন ও বিপণনে দৃশ্যমান উন্নতি, উচ্চমানের জন্য পরিচিত আফগান জাফরানের প্রতি আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরকারের বিশেষ মনোযোগ সব মিলিয়ে এই সাফল্য এসেছে।

২০২৫ সালে আফগান জাফরান রপ্তানি হয়েছে ভারত, স্পেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ইতালি, তুরস্ক ও ওমানে। এই বাজারগুলো জাফরান ভোগ ও পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে আফগান পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিস্তৃত বাজারে উপস্থিতি আফগান জাফরানকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখছে এবং অভিজাত বাজারগুলোতে ‘মেড ইন আফগানিস্তান’ ব্র্যান্ডকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ বাড়াচ্ছে।

রপ্তানির এই সাফল্যের পাশাপাশি, গত বছর আন্তর্জাতিক টেস্ট ইনস্টিটিউটের মূল্যায়নে আফগান জাফরান বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানের জাফরান খাতে বড় ধরনের উন্নয়নের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আফগানিস্তানে জাফরানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য এবং মাদকের কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রচলিত ফসলের তুলনায় এতে আয় বেশি হওয়ার পাশাপাশি এটি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, বিশেষ করে সংগ্রহ, শুকানো এবং প্যাকেজিং কাজে নারীদের জন্য।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই খাতে ধারাবাহিক সহায়তা এবং প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি মান উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ালে আগামী বছরগুলোতে আয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় হবে।

সব মিলিয়ে, পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ভিত্তিতে আফগান জাফরান বিশ্বসেরা জাফরানের কাতারে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। এটি প্রমাণ করে- উচ্চমান, পরিকল্পনা ও দৃঢ় প্রত্যাশা থাকলে আফগান কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক অভিজাত বাজারেও সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

সুত্র: হুরিয়াত রেডিও

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ