রবিবার | ২২ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

হিজবুল্লাহকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান; প্রস্তুত করা হচ্ছে যুদ্ধের জন্য

লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে এতোদিন পেছন থেকে সমর্থন দিলেও এবার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। এখন থেকে হিজবুল্লাহকে পরিচালনা করবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা।

ইতোমধ্যে লেবাননে গিয়ে যোদ্ধাদের আমেরিকা ও ইসরাইলের সম্ভাব্য আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন আইআরজিসি কর্তকর্তারা।

শনিবারের (২১ ফেব্রুয়ারি) আরব সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ বর্তমানে তাদের ঐতিহ্যবাহী লেবানিজ নেতৃত্বের পরিবর্তে ইরানের আইআরজিসি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

ইসরাইলি বা আমেরিকান হামলার আশঙ্কায়, সম্প্রতি লেবাননে আসা আইআরজিসি কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে সৌদি আরবের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নেতৃত্বের এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এল যখন হিজবুল্লাহ ও ইরান উভয় পক্ষই ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে একটি আসন্ন সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে।

হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি ইরান থেকে লেবাননে গেছেন। তাদের কাজ হচ্ছে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করা। ইসরাইলের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াইয়ে এই সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সেই লড়াই শেষ হয়।

সূত্রগুলো জানায়, ইরানি কর্মকর্তারা লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরাসরি ব্রিফিং দিচ্ছেন। তারা আরও বলেন, লেবাননের বেকা উপত্যকার একটি স্থানে আইআরজিসির কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। স্থানটি শুক্রবার রাতে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের শিকার হয়।

ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত এবং ১২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ছিলেন। ইসরাইলি বাহিনী জানায়, হামলায় হামাস ও হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হিজবুল্লাহ–ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, লেবাননের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ইসরাইলি সামরিক অভিযান কেবল সময়ের ব্যাপার।

এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছেন। তিনি বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। প্রথমে গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর পদক্ষেপের কারণে তিনি হুমকি দেন। পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও একই ধরনের হুমকি দেন।

ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো জানায়, আমেরিকা যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরান ইসরাইলকেও লক্ষ্যবস্তু করবে, এমন ধারণা থেকে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশেষ করে তাদের রকেট বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানে হামলা হলে হিজবুল্লাহ, আইআরজিসি, ইরান–সমর্থিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা একযোগে ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ