তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্ধারণী দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ায় ড. সিনান ওগানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও নতুন মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার অপেক্ষায় থাকা রজব তাইয়েব এরদোগান।
সোমবার (২২ মে) সিনান ওগানের সমর্থনের খবর পাওয়ার পর সিনান ওগানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে সিনান ওগানের ৫.১৭ শতাংশ ভোট নিজের পক্ষে টেনে বিজয় নিশ্চিত করতে এরদোগানের দল তার সাথে কোনো ধরণের সমঝোতায় যাবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, আমরা তার সাথে কোনো ধরণের সমঝোতায় যাবো না।
জানা যায়, ১ম রাউন্ডের নির্বাচনে ৫.১৭ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে ৩য় অবস্থানে থাকা এটিএ এলায়েন্সের ড.সিনান ওগান ২য় রাউন্ডের নির্বাচনে এরদোগানকে সমর্থনের ঘোষণা দেন।
সোমবার (২২ মে) এরদোগানকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এরদোগানের বুদ্ধিদীপ্ত নির্বাচনী প্রচারণা তাকে তুর্কি রাজনীতির শীর্ষ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। মূলত পার্লামেন্টে তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশ ও জাতির কল্যাণে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলেই বিশ্বাস করি।”
তিনি আরো বলেন, “গত ২০ বছর যাবত সফলতার সাথে দেশ পরিচালনা করে আসা এরদোগানের নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস এলায়েন্সের বিরুদ্ধে কিলিচদারের জোট ন্যাশনাল এলায়েন্স উপযুক্ত সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া তুরস্কের ভবিষ্যত প্রশ্নে তাদের পরিকল্পনাও আমাদের হতাশ করেছে। তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি।”
“প্রকৃতপক্ষে এরদোগানকে সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রে তার সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা আমাদের বেশ আকৃষ্ট করেছে। এছাড়া দেশকে স্থিতিশীল ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নবনির্বাচিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও পার্লামেন্টের কর্তৃত্ব একজনের কর্তৃত্বে রাখাই অধিক মঙ্গলজনক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে আমাদের কাছে।”
প্রসঙ্গত, ভিক্টরি পার্টির নেতৃত্বাধীন ড. সিনান ওগানের এটিএ এলায়েন্সের মূল এজেন্ডা ছিলো তুরস্ককে শরণার্থীমুক্ত করা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে অবিরাম অভিযান পরিচালনা।
বিশেষজ্ঞগণ ওগানের সমর্থনের বিষয়ে বলছেন, এরদোগান আগ থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে চলেছেন। না শুধু দেশে বরং দেশের বাইরেও। এছাড়া নিরাপত্তা খাতকেও তিনি ধীরে ধীরে পরাশক্তিদের কাতারে নিয়ে যাচ্ছেন যা ওগানের আকৃষ্ট হওয়ার মূল কারণ।
এছাড়া সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয় যেখানে দেখা যায় শরণার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশকেই তুরস্ক থেকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন এরদোগান। তবে এখনও যাদের তুরস্কের আশ্রয়ে রাখা হয়েছে তাদের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু এরদোগান ২য় রাউন্ডের এক নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছেন যে, বর্তমানে যেসব শরণার্থী তুরস্কে অবস্থান করছেন তাদের অধিকাংশই আমাদের নির্যাতিত নিপীড়িত সিরিয়ান ভাই। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিদ্রুত তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। ততদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের ভাইদের মানবিক সেবা দিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ এরাবিক











