ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক পাচার মামলার বিচারকাজ ২০২৭ সালের জুনে শুরুর প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার আদালতের একটি নথির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবারের নির্ধারিত শুনানির আগেই উভয় পক্ষ বিচার-পূর্ববর্তী আবেদন, গোপনীয় তথ্য-প্রমাণ হস্তান্তর এবং বিচার শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি তৈরি করেছে। মার্কিন জেলা বিচারক আলভিন হেলারস্টাইন বুধবারের শুনানিতে এ সময়সূচির অনুমোদন দিতে পারেন।
প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাদুরোর ‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম দায়মুক্তি’র আবেদনের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে নভেম্বরে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ ছাড়া আসামিপক্ষের অন্যান্য আবেদনের শুনানি আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে অপ্রকাশিত ও সাধারণ প্রমাণপত্রের বেশির ভাগই আসামিপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন। গোপনীয় নথিপত্রের সিংহভাগ আগামী নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন।
তবে প্রয়োজন হলে বিচার শুরুর তারিখ পেছানোর আবেদন করার অধিকার উভয় পক্ষই বহাল রেখেছে। প্রসিকিউটররা বলেছেন, শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় তথ্য নিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দিলে প্রস্তাবিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এর আগে মার্চে সর্বশেষ আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন মাদুরো ও ফ্লোরেস। সে সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের আইনি খরচ পরিশোধ করতে না পারায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ ভেনেজুয়েলার তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে তাদের আইনি লড়াই চালানোর অনুমতি দেয়। এরপর আইনজীবীরা মামলা খারিজের আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত একটি মার্কিন সামরিক অভিযানের পর মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে নার্কো-টেররিজম এবং যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাচারের উদ্দেশ্যে মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে গত জানুয়ারিতে আদালতে শুনানিকালে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মাদুরো। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং কোনো অপরাধ করিনি। আমি একজন নীতিবান মানুষ এবং আমি এখনো আমার দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট।”










