spot_img

রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে ইউক্রেন: পুতিন

রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে ইউক্রেন নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এর প্রতিশোধ হিসেবে ইউক্রেনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার ও অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদাম। এসব খাত থেকে আসা অর্থ রাশিয়ার যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করতে চায় কিয়েভ। তবে এরই মধ্যে এসব হামলার জবাব দিয়েছে মস্কো।

পুতিন বলেন, ‘কিয়েভ আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এতে তারা নিজেরাই এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে। এখন তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতে হামলার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকট তৈরি হবে না বলে দাবি করেন পুতিন। তার ভাষ্য, ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির ঘাটতি রাশিয়া পূরণ করতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা এসব সমস্যা সমাধান করব। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি হবে না।’

এর আগে কৃষ্ণসাগর দিয়ে বিশ্ববাজারে শস্য রপ্তানি নিরাপদ রাখতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি করেছিল। তুরস্কের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে করা ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির পথ নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া চুক্তিটি থেকে সরে আসে।

পুতিন আরও বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতিকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিতে হবে।

ইউক্রেন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোকে ‘অবাস্তব’ ও ‘অদ্ভুত’ বলেও মন্তব্য করেন পুতিন।

তিনি বলেন, এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই শান্তি আলোচনা হতে হবে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ